
বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২৬ কোটি তরুণ বর্তমানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। আরব বিশ্বের পরিস্থিতি এক্ষেত্রে আরও উদ্বেগজনক, যেখানে তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা টেকসই উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বর্তমান প্রজন্ম আগের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষিত, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত। তবে দীর্ঘ সময় কর্মসংস্থানের বাইরে থাকলে তাদের মধ্যে হতাশা, বিচ্ছিন্নতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কেবল দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের জন্য বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আরব বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো আরও গভীর। এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের বয়স ৩০ বছরের নিচে এবং ৩০ কোটিরও বেশি তরুণ সেখানে বসবাস করে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যমতে, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ১১ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সের অন্তর্ভুক্ত। ২০১০ সালের আরব বসন্তের আগেও এ অঞ্চলে প্রতি চারজন তরুণের মধ্যে একজন বেকার ছিলেন। ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা নির্দেশ করে যে তরুণদের বেকারত্ব এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
টেকসই উন্নয়নের মূল দর্শন হওয়া উচিত মানুষ, পরিবেশ ও সমৃদ্ধির সমন্বয়। পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বা কার্বন কমানোর উদ্যোগই টেকসই উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। কোনো প্রকল্প পরিবেশের জন্য সহায়ক হলেও যদি তা স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে না পারে, তবে তার সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যায়। একইভাবে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ টেকসই উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে না।
সরকারগুলোর উচিত বড় বিনিয়োগ, অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্পনীতি এবং সবুজ অর্থনীতির উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। এগুলো হলো—প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক মূল্য, উৎপাদনশীল কাজে মানুষের অংশগ্রহণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা। তরুণদের কাছে টেকসই উন্নয়ন কেবল ২০৫০ সালের কোনো দূরবর্তী লক্ষ্য নয়; বরং তাদের জন্য এর প্রকৃত অর্থ হলো আজকের কর্মসংস্থান, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং আগামীর নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২