
নিজের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত বুধবার আবুধাবি এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অর্থনীতিতে দুবাইয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে আমিরাতের এই পদক্ষেপের কারণে তেহরান বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক কিমিট আলজাজিরাকে জানান, ইরানের জন্য দুবাই নীরবে অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছিল। এমনকি চীন ও তুরস্ককে পেছনে ফেলে প্রতিবছর ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পণ্যই সরবরাহ করে দুবাই। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে আমিরাতের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করবে।
এর আগে, সংঘাত শুরুর কয়েক দিন পর গত মার্চের শুরুর দিকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তীতে জুনের শেষভাগে দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর দিয়ে পুনরায় বাণিজ্য শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটে কোনো সমাধান ছাড়াই গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হয়। এর ঠিক পরদিনই (মঙ্গলবার) আমিরাতের জলসীমায় হামলার এই ঘটনা ঘটে।
যুদ্ধের প্রথম sechs সপ্তাহে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের তুলনায় আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি পাল্টা হামলা চালিয়েছিল ইরান। গত মে মাসের পর মঙ্গলবারই প্রথম আমিরাতকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলো। এর মাত্র কয়েক দিন আগে আবুধাবি অভিযোগ করেছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'এডিএনওসি'-র দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তেহরান। যদিও ওই হামলার দায়ও স্বীকার করেনি ইরান।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সাম্প্রতিক অভিযোগ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বার্তায় জানান, এ ধরনের দাবি প্রতিবেশীসুলভ নীতির পরিপন্থি এবং এটি আঞ্চলিক পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা। এই ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে ইরান। গত বুধবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে, কারণ দেশটি গত মাসে তাদের বাজমার বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। এছাড়া সাইপ্রাসকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এর জবাবে ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, জোটটি যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক এই উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বাহিনীকে কোনো ধরনের সহায়তা না দিতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন ইরানের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২