বগুড়ার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জেরে রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এই হামলায় দুই স্টেশন মাস্টারসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোনাতলা রেল স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ (ক্লোজড ডাউন) ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে স্টেশনটিতে টিকিট বিক্রি, ক্রসিং ব্যবস্থা এবং অফিশিয়াল সেবা বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত ট্রেনগুলো যথানিয়মে যাতায়াত করছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সোনাতলা রেল স্টেশন সংলগ্ন হরিজন পাড়ার দুর্গা মন্দির ও সড়কের পশ্চিম পাশে রেলওয়ের ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পাবলিক টয়লেট ও দোকান নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের কথা বলে তড়িঘড়ি করে এই অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল বলে দাবি করেন রেল কর্মচারীরা, যাতে পরবর্তীতে তা ভাড়া দিয়ে ইজারা বাণিজ্য করা যায়। রেল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠালে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম জানান, অভিযান শেষ করে তিনি যখন প্ল্যাটফর্ম হয়ে নিজের কক্ষে প্রবেশ করছিলেন, তখন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ‘কৌটো বাবু’ এবং তার সহযোগী পারভেজ, শহিদুল, নয়নসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঢুকে দরজা আটকে দেয় এবং বার্তা পাঠানোর অপরাধে তাকে ও তার সহকর্মীদের বেদম মারধর করে। এ সময় তারা স্টেশনের কম্পিউটার, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে তচ্ছন্ন করে দেয়।
রবিউল ইসলাম বলেন, "ওরা আমাকে ও সহকর্মীদের ধরে ঘরে আটকে ফেলে বেদম মারধর শুরু করে। তারা চড়-থাপ্পড় আর ঘুসি মারতে মারতে চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘তুই বার্তা পাঠালিস কেন? তোর বার্তা পাঠানোর কারণে আমাদের ক্ষতি হলো। তোকে মেরে ফেলা হবে, আজ রাতে তুই এখানে ডিউটি করতে পারবি না।"
হামলায় গুরুতর আহত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার রবিউল ইসলাম ও আব্দুল মাজেদ, পয়েন্টসম্যান আব্দুর রহমান ও মো. সাজ্জাদুর রহমান, বুকিং সহকারী মাসুম পারভেজ এবং পোর্টার দুলাল হোসেন। এছাড়া আইডব্লিউ অফিসের কর্মচারী মো. শামীম হোসেন ঘটনার ছবি তোলার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকেও মারধর করে। ঘটনার পরপরই পুরো সোনাতলা স্টেশন এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বগুড়া রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসেন জানান, স্টেশন মাস্টারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। উচ্ছেদ অভিযানের পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ‘বাবু’ ও তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে দলবল নিয়ে স্টেশনের ভেতরে ঢুকে এই তাণ্ডব চালায়। হামলাকারীরা প্রকৌশলী আসলাম হোসেনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে উচ্ছেদের ছবি ও ভিডিও মুছে দেয় এবং জিআরপি ইনচার্জকে লাঞ্ছিত করে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় সদর দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোনাতলা রেল স্টেশনের সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও ডিমের বাড়তি দামে সাধারণ…
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে ভারতীয় চোরাকারবারিদের গোলাগুলির ঘটনায় বলাই দাস নামে এক ভারতীয় নাগরিককে…
প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের যুগে ইসলামের দাওয়াহ বা প্রচারের ক্ষেত্রে যেমন অসীম সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে,…
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৭২ হয়েছে। দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টার…
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের পর চট্টগ্রামে বসে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন…
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দিতে ৩ কোটি…
This website uses cookies.