
স্পেকট্রামকে শুধুমাত্র সরকারি রাজস্ব আহরণের মাধ্যম হিসেবে না দেখে জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে অধিক স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন গতি লাভ করবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর টেলিকম ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, নেটওয়ার্কের মান, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল এবং গ্রাহক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে ভিত্তি করা হবে। তিনি জানান, বিশ্বমান অনুযায়ী প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের জন্য ২ থেকে ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে এই হার মাত্র ২ দশমিক ২৯ মেগাহার্টজ। আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বর্তমানে ৪৬০ থেকে ৪৬২ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং আগামী বছর আরও ৪০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি নভেম্বরের স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে জাতীয় অংশীদারিত্বমূলক প্রক্রিয়ায় গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা স্পেকট্রামের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমটব প্রেসিডেন্ট ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা বলেন, স্পেকট্রামের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত এর মাধ্যমে সৃষ্ট বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে, কেবল রাজস্ব আয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়। অতিরিক্ত ফি অপারেটরদের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা সেবার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান জানান, গত পাঁচ বছরে রাজস্ব অবদান বাড়লেও বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্ত রিটার্ন কমেছে। ভয়েস কলের মিনিট ২৫ শতাংশ কমায় নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোতে স্পেকট্রাম নবায়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে উল্লেখ করেন, গত দশ বছরে খরচ বাড়লেও প্রবৃদ্ধি বাড়েনি, তাই সাশ্রয়ী স্পেকট্রাম বরাদ্দই পারে সেবার মান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তাইমুর রহমান, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম এবং এফআইসিসিআই এক্সিজিউটিভ ডিরেক্টিভ টিআইএম নূরুল কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমডি মুনির হাসান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিআরএনবি সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২