
সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজি কার্গো খালাস করা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় দেশে গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ওই কার্গোটিকে 'পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ' আখ্যা দিয়ে গ্যাস খালাসে আপত্তি জানানোয় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ১৮৮ কোটি ঘনফুটে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সরকারের পক্ষ থেকে বৈরী আবহাওয়ার কথা বলা হলেও মূলত এক্সিলারেট এনার্জির আপত্তির কারণেই গত তিন দিন ধরে কার্গোটি বহির্নোঙরে ভাসছে। এতে শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সরবরাহ দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ২১০ কোটিতে নেমেছিল। পরে ৫ আগস্ট আংশিক চালুর পর তা ২৩৫ কোটিতে উঠলেও বর্তমান কার্গো বিতর্কের কারণে সরবরাহ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি কার্গোটি থেকে এলএনজি খালাসের অনুরোধ জানালেও এক্সিলারেট তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আরামকোর এই কার্গোটি সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করে গ্যাস খালাস করা সম্ভব নয়। কারণ এটি তাদের টার্মিনালের জন্য উপযুক্ত নয় এবং কোনো ঝুঁকি তৈরি হলে তার দায় সামিট গ্রুপকেই নিতে হবে।
সাধারণত বাংলাদেশ মেমব্রেইন প্রযুক্তির জাহাজে এলএনজি আমদানি করলেও এবার 'মস টাইপ' প্রযুক্তির 'আল হামরা' নামের কার্গোটি আনা হয়েছে, যা ১১ আগস্ট মধ্যরাতে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছায়। এক্সিলারেট ও সামিটের কর্মকর্তাদের দাবি, এই জাহাজটি পুরোনো মডেলের এবং এটি খালাসের জন্য প্রযোজ্য নয়। কোন ধরনের কার্গো ব্যবহার করা যাবে, তার একটি তালিকা আগেই পেট্রোবাংলাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে আরামকোর এই কার্গোটির উল্লেখ ছিল না।
তবে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা এক্সিলারেটের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের মতে, ২০২১ সালে একই প্রযুক্তির 'মারায়েহ' নামের কার্গো থেকে এই এক্সিলারেট এনার্জিই এলএনজি খালাস করেছিল। এ বিষয়ে আরপিজিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া সামিট এলএনজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েদুল আলম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকর্তাদের ইমেইল ও এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী শনিবার 'ভিটল এশিয়া'র একটি এলএনজি কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাবে। সেটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা হতে পারে। এরপর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করতে ২-৩ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হবে। ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অন্তত আরও এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। বর্তমানে সরকার এক্সিলারেটকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে তারা রাজি না হলে আগামীকালের ভিটল এশিয়ার কার্গোটি আসার পরই গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বিটল এশিয়ার একটি এলএনজিবাহী কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় আসবে। সেটি হয়তো শেষ পর্যন্ত সামিটের টার্মিনালে সংযুক্ত করা হবে। এরপর কয়েকদিনের মধ্যে পুরোদমে চালু করতে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল ২ থেকে ৩ দিনের জন্য বন্ধ করা হবে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে অ
বাংলাদেশ সাধারণত মেমব্রেইনে করেই এলএনজি আমদানি করে। কিন্তু এবার করল মস টাইপে। ১১ আগস্ট মধ্যরাতে আল হামরা নামে এই কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। বলা হয়, তখন সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে বাতাসের গতি ১৫ থেকে ২০ মিটার থাকলে কার্গোগুলো টার্মিনালের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হয়ে যায়। জ্বালানি খাতের
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২