বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭.২৮ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৩.২৫ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছিল। পরবর্তী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৭.৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৭১.১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৬৪.৩৬ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১০.৫০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৩.৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ৪৩.৯৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ কম। অর্থবছরের শেষ মাস জুনে আমদানি ব্যয় ছিল ৭১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত বছরের জুনের চেয়ে ৭৪.২৩ শতাংশ বেশি। বিপরীতে জুনে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার।
কোভিড মহামারীর পরবর্তী সময়ে ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে শেখ হাসিনা সরকারের নেওয়া সাশ্রয়ী নীতিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি কমে ২০.৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। পরবর্তীতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও একই ধারা বজায় রাখায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ২২.৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে গত অর্থবছরে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে ঘাটতি ফের বড় আকার ধারণ করেছে।
বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও (বিওপি) ঘাটতি বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ১.৬০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যেখানে আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ঘাটতি ছিল ৪৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। অথচ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) এই সূচকে ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল এবং জুলাই মাসে উদ্বৃত্ত ছিল ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
তবে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়েছিল ৩.৫৯ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে ২.০৪ বিলিয়ন ডলারে এবং নয় মাস শেষে (জুলাই-মার্চ) ৩.৫৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এছাড়া সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ৩.৩৯ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়েছিল, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষ হয়েছিল ৪.৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে।
এদিকে, গত অর্থবছরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমে ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে নিট এফডিআইয়ের পরিমাণ ছিল ১.৭২ বিলিয়ন ডলার।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফরকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন…
চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সবার জন্যই সমান হুমকি…
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণ ও তা আরও সহজ করতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর…
বাংলাদেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও দুর্যোগসহনশীল আবাসন ঋণের সুযোগ বাড়াতে ১০…
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রুনাইয়ের…
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ১১ মাস বয়সী শিশু নাফিসকে অপহরণ ও পাচারের মূলহোতা আবুল কালাম আজাদের দৃষ্টান্তমূলক…
This website uses cookies.