Header Premium (728×90)

৩ বছরে ৩২০ অপহরণ, টেকনাফে নিরাপত্তা ফেরানোর দাবি

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত তিন বছরে এই এলাকায় অন্তত ৩২০ জন মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইতিমধ্যেই শতাধিক পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মৌলিক নিরাপত্তাবোধকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে। নিজ ঘরেই নাগরিকদের এই নিরাপত্তাহীনতা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

বিশেষ করে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা জনপদে রাতের পর রাত গোলাগুলি ও অস্ত্রের মুখে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এই অপরাধচক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু, কৃষক, পল্লী চিকিৎসক কিংবা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার নিজেদের বাড়িতে থাকার সাহস পাচ্ছে না। এর ফলে স্থানীয় শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভৌগোলিক দুর্গমতা, পাহাড়ি এলাকা এবং রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে এই সীমান্ত অঞ্চলে অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অপরাধীরা যদি মনে করে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় নেবে, তবে তাদের দুঃসাহস আরও বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন ও যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, অতীতেও এমন অনেক অভিযানের ঘোষণা সত্ত্বেও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তাই শুধু সাময়িক অভিযান নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

টেকনাফে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত টহল, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, অপহরণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় প্রতিশোধের ভয়ে মানুষ অভিযোগ করতে চান না, যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে। এই ভয়ের সংস্কৃতি ভাঙতে সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দিয়ে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

টেকনাফ কেবল একটি সীমান্ত উপজেলা নয়; এটি দেশের নিরাপত্তা, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। তাই এখানকার অপরাধের বিস্তারকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের নিজ ঘরে নিরাপদে বসবাসের অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

Recent Posts

রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবায় মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম হত্যা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলী ও তার ভাইকে ফাঁসানোর…

3 hours ago

উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।…

4 hours ago

ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন…

5 hours ago

মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০০ ইয়াবা উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট…

5 hours ago

রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা

বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের জন্মদিনে আলিয়া ভাট শেয়ার করলেন তাদের একান্ত ভালোবাসার মুহূর্তের ছবি, যা…

5 hours ago

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন…

5 hours ago

This website uses cookies.