২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের বিশদ বিবরণ দিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা কার্যালয় থেকে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই রিপোর্টটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা ছিল গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি অপরাধের শামিল।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে ১১৮ জন শিশুসহ অন্তত ১ হাজার ৪০০ নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী, বিক্ষোভকারী, নারী ও শিশু রয়েছেন। এছাড়া এই সহিংসতায় আহত হয়েছেন আরও ১১ হাজার ৭০০ জন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট মৃত্যুর ৬৬ শতাংশ ঘটেছে মিলিটারি রাইফেলের গুলিতে এবং ১২ শতাংশ শটগানের গুলিতে। আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানিরও শিকার হয়েছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওএইচসিএইচআর-এর বিশ্বাসযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, এই নৃশংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং তা রাজনৈতিক নেতৃত্বের পূর্ণ সচেতনতা, সমন্বয় এবং নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। শেখ হাসিনা নিজে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বল প্রয়োগের নির্দেশ দিতেন এবং নিয়মিত এর তদারকি ও রিপোর্ট নিতেন। শেখ হাসিনার পাশাপাশি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা শাখার শীর্ষ কর্মকর্তারা এই দমন অভিযানের নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও ডিজিএফআই-এর মতো রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের ওপর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্বিচার গুলি চালানোর মতো গুরুতর অপরাধে জড়ানো হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৩ শতাংশই ছিল শিশু। পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা, পঙ্গু ও নির্বিচারে গ্রেফতার করেছে, যা চরম অপরাধ হিসেবে গণ্য। এছাড়া, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আহতরা হাসপাতালেও হামলার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে দেশে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ।
এই তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরির জন্য ওএইচসিএইচআর ২৩০টিরও বেশি প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং ৯৫৯টি লিখিত উপস্থাপন পর্যালোচনা করেছে। এছাড়া হাজার হাজার ভিডিও, ছবি, ১৫৩টি চিকিৎসা নথি এবং বিভিন্ন ফরেনসিক বিশ্লেষণ খতিয়ে দেখা হয়েছে। সংস্থাটি সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক প্রতিনিধি, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এই দমন অভিযান ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের স্পষ্ট উপাদান। চূড়ান্ত সুপারিশে ওএইচসিএইচআর বলেছে, এই গুরুতর অপরাধগুলোর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত্যা ১৪শ, আহত ১১ হাজার ৭শ, নিহতদের ১২-১৩ শতাংশ শিশু * আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ছাড়াও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে ব্যাপক ও সমন্বিত বল প্রয়োগ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখবে—এমন আশঙ্কায় বুধবার আন্তর্জাতিক…
চীনের লাইভস্ট্রিম শপিং খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সুপারস্টার লি…
কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ…
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ঐতিহাসিক এই সফরে…
পাকিস্তানের লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ প্রথমবারের মতো আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন। তিনি আফগানিস্তানের…
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে। ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই ক্রুডের…
This website uses cookies.