

রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো বড় পরিবর্তনের শুরুটা খুব কম ক্ষেত্রেই বড় কোনো ঘটনা দিয়ে হয়। ইতিহাসের বইয়ে যে ঘটনা আমরা পরে যুগান্তকারী বলে পড়ি, তার সূচনা অনেক সময় ঘটে এমন একটি মুহূর্ত থেকে, যাকে তখনকার মানুষও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি।
কখনো একজন ক্ষুব্ধ তরুণের আত্মাহুতি, কখনো আদালতের একটি রায়, কখনো কোনো রাজনৈতিক নেতার একটি অবমাননাকর মন্তব্য, আবার কখনো পুলিশের একটি লাঠিচার্জ থেকে পরিবর্তনের শুরু হয়। এসবের কোনোটিই একা একটি সরকার বদলে দেয় না। কিন্তু এগুলো এমন একটি স্ফুলিঙ্গে পরিণত হতে পারে, যা বহুদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভকে আগুনে রূপ দেয়।
২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিউনিসিয়ার তরুণ ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মাহুতির ঘটনাও শুরুতে স্থানীয় একটি ট্র্যাজেডি হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সে ঘটনাই তিউনিসিয়া থেকে মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন এবং সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইতিহাস সেই ধারাবাহিক ঘটনাকে নাম দেয় আরব বসন্ত।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আরব বসন্তের দেশগুলো এক ছিল না। তাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো কিংবা রাষ্ট্রের চরিত্রও অভিন্ন ছিল না। তবু ইতিহাসবিদরা পরে বুঝতে পারেন ভিন্ন ভিন্ন দেশের ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন প্রবণতা কাজ করছিল। সেই কারণেই তারা একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক অভিধা পায়।
আজ দক্ষিণ এশিয়ার দিকে তাকালে অনুরূপ একটি প্রশ্ন ধীরে ধীরে সামনে আসছে। শ্রীলঙ্কার গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন, নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিককালে ভারতের তরুণদের নতুন ধরনের প্রতিবাদ এসব কি শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা? নাকি এগুলোর মধ্যে এমন কোনো অভিন্ন রাজনৈতিক প্রবণতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। ইতিহাস সাধারণত ঘটনাপ্রবাহের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের নাম ঘোষণা করে না। কিন্তু প্রশ্নটি তোলার মতো পর্যাপ্ত উপাদান এখন তৈরি হয়েছে বলেই মনে হয়।
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ০৪আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১: ০৮
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২