নিকারাগুয়ায় ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা। ৮০ বছর বয়সী এই নেতা দাবি করেছেন, প্রধান বিরোধী পক্ষ যাতে কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেই লক্ষ্য থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালের স্যান্ডিনিস্তা বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, এই বিপ্লবের মাধ্যমেই তৎকালীন স্বৈরশাসক আনাস্তাসিও সোমোঝাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ওর্তেগা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
২০০৭ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ওর্তেগা তার নিয়ন্ত্রণে থাকা পার্লামেন্টের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটি ‘প্রতিরোধ দেয়াল’ হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, ক্যুয়ের পরিকল্পনাকারী ও দেশদ্রোহীদের রুখে দিতে কঠোর আইনের প্রয়োজন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত করানো হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো যাতে সরকার বা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে না পারে, সেজন্য এখানে আর কোনো নির্বাচন হবে না। টানা ৬১ দিন পর জনসম্মুখে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নির্বাচন কি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হবে, নাকি বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেয়া হবে না, সে বিষয়ে ওর্তেগা বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনেই বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের জেলে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া গত বছর ওর্তেগা সংবিধানে বেশ কিছু সংশোধন এনেছেন, যার মধ্যে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা এবং তার স্ত্রী ও তৎকালীন ভাইস-প্রেসিডেন্ট রোজারিও মুরিলোকে ‘সহ-প্রেসিডেন্ট’ পদে উন্নীত করা অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে তাদের এই শাসনব্যবস্থাকে ‘মুরিলো-ওর্তেগা স্বৈরতন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করছে।
বিশ্লেষকরা এই ঘোষণাকে পরিস্থিতির বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন। আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা’র লাতিন আমেরিকা বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক তিজিয়ানো ব্রেডার মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওর্তেগা-মুরিলো পরিবার নিকারাগুয়ায় পূর্ণাঙ্গ পারিবারিক স্বৈরতন্ত্রের চূড়ান্ত সিলমোহর দিলেন। ২০১৮ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ওর্তেগা সরকারের চরম নিপীড়নে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত, হাজার হাজার মানুষ বন্দি এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন রাজনৈতিক বন্দী রয়েছে। এছাড়া ওর্তেগা সরকার ৫৪৬ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে এবং ৫,৬০০টিরও বেশি এনজিও, ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫৮টি সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে। সম্প্রতি আদিবাসী নেতা ও সাবেক আইনপ্রণেতা ব্রুকলিন রিভেরা টানা তিন বছর কারাবন্দি থাকার পর মারা যান, যার দায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো ওর্তেগা-মুরিলো দম্পতির ওপরই চাপিয়েছে।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর এবং মিরপুরের…
চুয়াডাঙ্গা জেলার ৩২তম পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেহেদী শাহরিয়ার। সোমবার বিকেলে…
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হলে দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে জব্দ…
একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে চিহ্নিত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার…
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে ধর্ষণ মামলার আসামি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাঈদ আলীকে…
রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাশকতার…
This website uses cookies.