প্রতারণায় ৮৮০০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র
- আপডেট সময় : ১১:১৮:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রগুলো তাদের কৌশল পরিবর্তনের মাধ্যমে দ্রুত তাদের কার্যক্রম বিস্তার করছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো ২০২৫ সালে প্রতারণার মাধ্যমে কমপক্ষে ৮৮০০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে এই প্রতারণার কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৮৩১.১৪ কোটি ডলার, যা ওই অঞ্চলের অনেক দেশের জিডিপির চেয়েও বেশি।
ইউএনওডিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি ডেলফিন শান্টজ জানান, অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো এখন আর নির্দিষ্ট অবৈধ ব্যবসায় সীমাবদ্ধ নেই। বরং তারা করপোরেট ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো পরস্পর সংযুক্ত সেবাভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে অর্থ পাচার, মানবপাচার, অভিবাসী পাচার এবং তথ্য চুরির মতো অপরাধ পরিচালনা করছে। এসব প্রতারণাকেন্দ্র থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ইউএনওডিসির তথ্যমতে, অন্তত ৮০টি দেশ ও অঞ্চলের নাগরিকরা এসব প্রতারণাকেন্দ্রের শিকার হয়েছেন, যাদের এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন ট্রানজিট পয়েন্ট ব্যবহার করে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রতারক চক্রগুলো এখন এশিয়ার বাইরেও কর্মী নিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে। তারা জার্মান, পোলিশ, ডাচ, স্প্যানিশ, ইতালীয়, ফরাসি, সুইডিশ, নরওয়েজিয়ান এবং ইংরেজি ভাষা জানা ব্যক্তিদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে মিয়ানমার ও লাওস থেকে সরে গিয়ে তারা পূর্ব তিমুর, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন ঘাঁটি গাড়ছে। দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও শিথিল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমন এলাকা খুঁজে বের করার এই প্রবণতাকে তারা ‘জুরিসডিকশন শপিং’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
প্রযুক্তি এবং দুর্নীতির মেলবন্ধনে এই অপরাধ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। অপরাধীরা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এজেন্টিক এআই ব্যবহারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতারণা, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অর্থ পাচারের পরিকল্পনা করছে। ইউএনওডিসির প্রধান বিশ্লেষক ইনশিক সিম সতর্ক করে বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধভিত্তিক এই অর্থনীতির ব্যাপ্তি ও জটিলতা বর্তমান প্রতিরোধব্যবস্থার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে।





























