
গত ১০ ও ১১ অক্টোবর দিল্লির রাজপথ থেকে প্রাপ্ত দৃশ্যগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক। হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের, বিশেষ করে নারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের চোখের সামনেই। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আরও গুরুতর; প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, যাঁদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তাঁরাই নারীদের অশালীনভাবে স্পর্শ করেছেন এবং যৌন হয়রানি করেছেন। ভারতের ‘ধর্ষণের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত দিল্লিতে পুলিশের এই আচরণ সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তার অভাবকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
পুলিশের এই দমন-পীড়নের পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সাংবাদিক ও ইউটিউবারদের বাধা দেওয়ার ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি আড়াল করতে চেয়েছিল। এর বাইরে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলোর হুমকি ও শারীরিক আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ থাকলেও হামলাকারীরা কেন বাধাহীন ছিল, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকেই এই পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার মিল খুঁজে পাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি ভিন্নমত দমনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের কৌশলের মতো কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করেছে? কাশ্মীরিদের ওপর ২০১৯ সালের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর থেকে যে ধরনের দমন-পীড়ন ও ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছে, জাতীয় রাজধানীতে ঘটতে থাকা সাম্প্রতিক দৃশ্যগুলো দেখে মনে হচ্ছে পুরো দেশকেই যেন একটি বড় কাশ্মীরে রূপান্তর করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধী বারবার এসব বিষয় তুলে ধরলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়ে বিরোধী দলগুলোর একটি বড় অংশই নিশ্চুপ।
তবে এই হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। বছরের পর বছর ধরে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, বিলকিস বানু মামলার আসামিদের মুক্তি, হাথরসের ঘটনা কিংবা কুস্তিগিরদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের ঘটনায় জনসাধারণের যে নীরবতা ছিল, তা এবার ভাঙতে শুরু করেছে। তরুণ-তরুণীরা রাস্তায় নেমে সংবিধান রক্ষা ও হিন্দু-মুসলিম ভ্রাতৃত্বের স্লোগান তুলছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই তরুণ প্রজন্মের নীরবতা ভেঙে সরব হয়ে ওঠা ভারতের গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন আশার সঞ্চার করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২