
বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের যে মানদণ্ড, ভারত যেন তা দ্রুত বর্জন করে ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জ্ঞানেশ কুমার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কমিশন কোটি কোটি বৈধ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং তরুণ ভোটারদের অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্যভান্ডার তৈরি করে ভোটার তালিকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টা সংবিধানের এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকার বাধ্যবাধকতাকেও লঙ্ঘন করছে।
দ্য হিন্দু পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি রাজ্যগুলোর কাছে ধর্মভিত্তিক ভোটার নিবন্ধন, যানবাহন নিবন্ধন, জমি ক্রয়-বিক্রয় ও স্কুল ভর্তির মতো স্পর্শকাতর তথ্য চেয়ে চাপ দিচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডগুলো কোনো সাধারণ আমলাতান্ত্রিক ব্যর্থতা নয়, বরং নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতে ফ্যাসিবাদের সুস্পষ্ট সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পাস হওয়া নতুন আইন। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই তাঁর পছন্দের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বেছে নেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছেন। নতুন নিয়মে তিন সদস্যের বাছাই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মনোনীত একজন মন্ত্রী থাকেন, যেখানে বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা কেবল প্রতিবাদ জানানোয় সীমাবদ্ধ। এই ব্যবস্থা ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাসীন সরকারের ফ্যাসিবাদের নকশা বাস্তবায়নের যন্ত্রে পরিণত করেছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কমিশনের অন্য দুই কমিশনার লিখিতভাবে বিরোধিতা করেছিলেন। এসব ফাইল নোট সামনে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কমিশনের বিতর্কিত বিশেষ ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) কার্যক্রমের কারণে ১৩ কোটিরও বেশি ভারতীয় তাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোট ভোটের প্রায় ২০ শতাংশ। দিল্লির ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের এক-তৃতীয়াংশেই বিগত ফেব্রুয়ারিতে প্রদত্ত ভোটের চেয়ে বেশি মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও রহস্যজনকভাবে ১৬ লাখ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদিও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত ট্রাইব্যুনাল ৯১ শতাংশ সন্দেহভাজন কেস বাতিল করে ভোটারদের ছাড়পত্র দিয়েছিল। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধির পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও সারা দেশে এসআইআর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকার ও তাদের সাভারকরবাদী আদর্শকে স্থায়ী করতেই বিরোধীদের সমর্থনকারী ভোটারদের গণহারে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২