গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়ার নিরঙ্কুশ বিজয় ছিল আগে থেকেই নির্ধারিত। বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে শাসক দলের বড় জয় নিশ্চিত করা হয় এবং ক্রেমলিন নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটও কার্যত সরকারের প্রতি সমর্থনই নির্দেশ করে। তবে এই জনরায় পুতিনের কাছে ইউক্রেনের ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর জন্য নতুন বৈধতা হিসেবে কাজ করছে। ক্রেমলিন বিশ্বজুড়ে এটিই প্রচার করতে চায় যে, রাশিয়া শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং সামরিক লক্ষ্য অর্জনে যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন। স্বাধীন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘লেভাদা সেন্টার’-এর জুলাই মাসের জরিপ অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক অভিযানকে সফল মনে করা মানুষের হার আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া, দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে করা মানুষের সংখ্যাও ১০ শতাংশ কমে ৫৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সমর্থনের হার ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা স্বৈরতন্ত্রের জন্য একটি বড় পতনের ইঙ্গিত। দীর্ঘ যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি, ইন্টারনেট বিধিনিষেধ এবং জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের মনোবল কমিয়ে দিচ্ছে।
আগস্ট মাসের জরিপ বলছে, প্রতি তিনজনের দুজন উত্তরদাতা ইন্টারনেট ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বহু রুশ নাগরিক নতুন করে সামরিক সংহতকরণের আশঙ্কায় রয়েছেন। যদিও ক্রেমলিন আংশিক ও গোপন সংহতকরণকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবুও নতুন করে চাপ তৈরির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুতিন এখন সংঘাত বৃদ্ধিকেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেনে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে যুদ্ধবিরোধী দল ‘ইয়াবলোকো’র ওপর চরম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তাদের নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শীর্ষ নেতা লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পুতিন ঘন ঘন সামরিক বাহিনী, বিজ্ঞানী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এমনকি জাপানকে উসকানি দিতে তিনি ওখটস্ক সাগরের বিতর্কিত দ্বীপ পরিদর্শন করেছেন। আগস্টে রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের পক্ষ থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর যোদ্ধা প্রিন্স দিমিত্রি দনস্কয়ের দেহাবশেষ ‘আবিষ্কারের’ ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পুতিন সামরিক সেবায় নিয়োজিত করেন এবং তার পবিত্র স্মারক ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।
ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো দেশের সাহায্য পাওয়া কঠিন। সিআইএ ডিরেক্টর জন র্যাটক্লিফের আগস্টের আকস্মিক মস্কো সফরকে নতুন ধরনের কূটনীতির চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আপাতত ক্রেমলিন বিশ্বাস করে যে তাদের কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় ও উপায় রয়েছে। রাশিয়ার জিডিপি ও শিল্প উৎপাদন এখন অস্ত্র উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল, যা অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংকট তৈরি করছে। পুতিনের শাসনব্যবস্থা এখন সংকট তৈরি করে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলে টিকে আছে, যদিও এই কৌশলের সুফল ক্রমশ কমে আসছে।
চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও টেবুলেশন শিট বিতরণ আজ থেকে শুরু…
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত ৮১৭ জন প্রার্থীকে আগামী ১ অক্টোবরের…
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উদ্যাপনের সময়…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলের চেষ্টা এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় বাড়িতে হামলার…
দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রবন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহনের সুযোগ কমে যাওয়ায় ইরান এখন স্থলসীমান্তের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এর ফলে…
ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে ২৫ মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা…
This website uses cookies.