
বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দুর্নীতির উপস্থিতি একটি গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি জনসমক্ষে একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন—‘সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশই চোর।’ এই বক্তব্যটি কেবল একটি অভিযোগ নয়, বরং রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষতকে একঝটকায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার শামিল। যখন রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তি এমন মন্তব্য করেন, তখন তা প্রশাসনের ভেতরের নৈতিক অবক্ষয়ের এক ধরনের স্বীকৃতি হিসেবেই গণ্য হয়।
দেশের সরকারি অফিস ও আদালতগুলোতে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বহু বছরের অভিন্ন। সেবা নিতে গিয়ে ফাইল আটকে থাকা, দালালদের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষ ছাড়া কাজ না হওয়ার মতো ঘটনা নিত্যদিনের বাস্তবতা। স্পিকারের এই বক্তব্য যেন সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সেই জমে থাকা ক্ষোভ ও দীর্ঘশ্বাসকে ভাষা দিয়েছে। তবে এই বক্তব্যের তাৎপর্য কেবল অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক কৌশল নাকি সাহসের পরিচয়, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।
প্রশাসনের অভ্যন্তরে এই বক্তব্যের নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। অনেক সৎ কর্মকর্তা এই সামগ্রিক অভিযোগে আহত বোধ করতে পারেন, আবার বিরোধী দল এটিকে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। একই সঙ্গে, সাধারণ মানুষ মনে করতে পারে যে অবশেষে কেউ সত্য কথাটি উচ্চারণ করলেন। এই বক্তব্য প্রশাসনের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের ইঙ্গিত বহন করে, যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতির দুর্বলতাকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে।
দুর্নীতি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি অভ্যাস যা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে। ফাইলের গতি বা মামলার রায় অনেক সময় প্রভাব বা অর্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তবে সব অফিস বা সব কর্মকর্তা দুর্নীতিগ্রস্ত নন। বাংলাদেশে এমন অনেক সৎ মানুষ আছেন যারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সৎ মানুষেরাই দেশের অন্ধকারের মাঝে আলোর দিশারি।
প্রশাসনিক জটিলতা, অদক্ষতা এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ দুর্নীতির বিস্তারে সহায়তা করে। প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা, সেবা প্রদান সহজতর করা এবং কঠোর আইনের প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল এই অন্ধকার দূর করা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। দুর্নীতি একটি আগাছার মতো, যা অনুর্বর ও দুর্বল নিয়মের মাটিতে দ্রুত জন্মায়। সমাজ ও প্রশাসন যখন স্বচ্ছতার দিকে এগিয়ে যাবে, তখনই দুর্নীতি ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে। বাংলাদেশ এখনো সেই ভোরের অপেক্ষায় আছে, যেখানে কাজ হবে সহজ আর ন্যায়বিচার হবে দ্রুত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২