Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

শিক্ষা বোর্ডের মূল্যায়ন সংকট ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনিশ্চয়তা

পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ৫৬ হাজার ২৫১টি খাতার ফল পরিবর্তন করতে হওয়াটা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে জমে থাকা ভয়াবহ গলদের বহিঃপ্রকাশ। সারা দেশ থেকে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছিলেন, যার প্রেক্ষিতে ১০ লাখ ৫৬ হাজার খাতা নতুন করে যাচাই করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তনসহ হাজার হাজার খাতার নম্বর সংশোধন করা হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়া, ফেল থেকে পাস করা এবং গ্রেড পরিবর্তনের এমন ঘটনা দেশের ইতিহাসে বিরল।

ফল প্রকাশের পর টানা এক মাস ধরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবক যে মানসিক যন্ত্রণা ও ট্রমার মধ্য দিয়ে পার করেছেন, তার দায়ভার আসলে কার? শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়নের অধিকার রাখে, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে ফল প্রকাশের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তাতে তারা নিয়মিত মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় দুই মাসের কম সময়ে ফল প্রকাশের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকারও সেই একই ভুল পথে হাঁটছে। গুণগত মান নিশ্চিত না করে নির্ধারিত সময়ের আগে ফল প্রকাশ কোনো অর্জন হতে পারে না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখন প্রযুক্তি ও যন্ত্রনির্ভর হওয়ার সাথে সাথে মানবিক সচেতনতা হারিয়ে ফেলছে। অথচ মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক যোগ্য শিক্ষক এখন বোর্ডের খাতা দেখতে অনাগ্রহী, কারণ কোচিং বা প্রাইভেট পড়িয়ে তাদের উপার্জনের পরিমাণ বোর্ডের খাতা দেখার চেয়ে অনেক বেশি। এই সুযোগে বোর্ডগুলো বাধ্য হয়ে অনভিজ্ঞ ও অনুপ্রেরণাহীন শিক্ষকদের হাতে খাতা তুলে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মূল পরীক্ষক নিজে খাতা না দেখে স্ত্রী, সন্তান বা নিজস্ব শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন। আবার নির্দিষ্ট সময়ে ফল প্রকাশের চাপে কুমিল্লা বোর্ডের মতো জায়গায় একই শিক্ষককে তিন-চারবার খাতা দেওয়া হচ্ছে, যা মানসম্মত মূল্যায়নের পরিপন্থি।

শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ নয়। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে দলীয় পরিচয় বা স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বোর্ডের চেয়ারে বসছেন। তাদের পক্ষে শিক্ষা প্রশাসনে কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কারণ প্রশাসনিক পদগুলোতে কাজ করতে হলে নৈতিক সাহস, অগাধ পড়াশোনা ও নেতৃত্বের গুণাবলি প্রয়োজন।

এই সংকটের সমাধানে শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক যে পদেই থাকুন না কেন, তাদের মনে রাখতে হবে তারা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি। সমাধান হিসেবে যোগ্য ও অল্পসংখ্যক শিক্ষকের হাতে খাতা দেওয়া, তাদের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো এবং প্রথম পরীক্ষকের দেখা খাতা অবশ্যই দ্বিতীয় পরীক্ষক দিয়ে পুনর্নিরীক্ষণ করার ব্যবস্থা করা জরুরি। শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেকশনের দুর্নীতি রোধ এবং নিয়োগে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে না পারলে প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা চলতেই থাকবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

Recent Posts

কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী

প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে জাকার্তায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। দলে যোগ দিয়েছেন…

3 minutes ago

ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)…

19 minutes ago

বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, বিদ্যমান সদস্যদের তথ্য যাচাই এবং হালনাগাদের জন্য সাত…

20 minutes ago

স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড়

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্পেসএক্সের আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে এয়ারলাইন সেবায় প্রবেশ করছে অ্যামাজন। ২০২৭ সাল থেকে…

28 minutes ago

নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতন করে ভাত খাওয়া ও চুরির স্বীকারোক্তি…

51 minutes ago

বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ

বার্লিন ব্রান্ডেনবার্গ বিমানবন্দরের উত্তর রানওয়ের ওপর ড্রোন দেখা দেওয়ায় বুধবার ৪৫ মিনিটের জন্য আকাশসীমা বন্ধ…

1 hour ago

This website uses cookies.