
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ০০
সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে একটি শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত পদের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবটি চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে অর্জিত মেধাক্রমকে ব্যক্তিনির্ভর মূল্যায়নের মাধ্যমে পরিবর্তন করার সুযোগ তৈরি হওয়া রাষ্ট্রের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
লিখিত পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে একটি নিরপেক্ষ পদ্ধতি। একই প্রশ্নে ও একই সময়ে অসংখ্য প্রার্থী এতে অংশ নেন এবং নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। এর বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষা অনেকটাই ব্যক্তিনির্ভর। যদিও প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা ও উপস্থিত বুদ্ধি যাচাইয়ের জন্য মৌখিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, কিন্তু যখন এই পরীক্ষার নম্বর লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রমকে ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে, তখনই নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থীদের কাছে সরকারি চাকরি কেবল একটি পেশা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বছরের পর বছর তারা এই ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে প্রস্তুতি নেন। যদি এমন ধারণা তৈরি হয় যে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার পরও ব্যক্তিগত পছন্দ বা সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হতে পারে, তবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি প্রার্থীদের আস্থা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নিয়োগের জায়গা নয়, বরং রাষ্ট্রের সেবকদের নিয়োগের ক্ষেত্র। বিশেষ করে গ্রেড ১১ থেকে ২০-এর কর্মীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করেন। মাঠপর্যায়ে ভূমি অফিস, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের ওপরই থাকে। নিয়োগের শুরুতেই যদি রাজনৈতিক পরিচয় বা সুপারিশের প্রভাব পড়ে, তবে রাষ্ট্রীয় সেবার নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাষ্ট্রের প্রয়োজন এমন মানুষ যারা ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারেন এবং দায়িত্বের জায়গায় নিরপেক্ষ থাকতে সক্ষম। নিয়োগের প্রতিটি ধাপে যদি মুখস্থনির্ভর প্রতিযোগিতার পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিনির্ভর মূল্যায়নের প্রভাব বাড়ে, তবে যোগ্যতার প্রকৃত মূল্যায়ন সম্ভব নয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে একজন প্রার্থীকে ভাবতে হয়, ‘মৌখিক পরীক্ষায় আমার জন্য কে কথা বলবে?’
মৌখিক পরীক্ষা অবশ্যই থাকা প্রয়োজন, তবে তা হতে হবে কাঠামোবদ্ধ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক। প্রার্থীর দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকতে হবে এবং প্রতিটি নম্বরের যৌক্তিক ভিত্তি থাকা আবশ্যক। নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা তখনি তৈরি হয় যখন একজন প্রার্থী নিশ্চিত থাকেন যে তার পরিচয় নয়, বরং তার যোগ্যতাই নিয়োগের প্রধান মাপকাঠি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২