Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ: ফজলে এলাহী আকবর

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এর ভূকৌশলগত গুরুত্ব ও বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। তিনি জানান, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব ও মধ্যপ্রাচ্যে কৃত্রিম শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতা বজায় ছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় যুদ্ধের প্রথাগত ধারণা বদলে যাওয়ায় ইরান ও আরব দেশগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যার ফসল এই মক্কা চুক্তি। এটি ন্যাটোর মতো আক্রমণাত্মক জোট নয়, বরং একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা যা সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তার গ্যারান্টি প্রদান করে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী সামরিক ভিত্তি সম্পন্ন দেশগুলোর এই জোটে যুক্ত হওয়ার পেছনে নিজস্ব ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বিপদের সময়ে যৌথ নিরাপত্তা (আর্টিকেল ৫) না পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে তুরস্ক বিকল্প জোটের সন্ধান করছে, সৌদি আরব ইসরায়েল-ইরান সমীকরণে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় এবং পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক শক্তি ও দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই জোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে ফজলে এলাহী আকবর বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করলেও আমাদের সক্ষমতা সেখানে খুবই সীমিত। দ্বিতীয়ত, গত ৫৫ বছর বিশ্বশান্তি সমর্থনের কূটনৈতিক নীতি মেনে চলেও আজ আমাদের কোনো অকৃত্রিম মিত্র নেই, যারা সংকটে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়াবে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের ক্রমাগত বৈরী আচরণ ও হুমকির কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন কোনো নিরাপত্তা ছাতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি মনে করেন, এই চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশ কেবল সামরিক সুরক্ষাই পাবে না, বরং জোটের সমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দুয়ার খুলবে।

চুক্তির ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ বা যৌথ নিরাপত্তার উদাহরণ টেনে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যে এক দেশ আক্রান্ত হলে সবাইকে বাধ্যতামূলক যুদ্ধে নামতে হবে, কিন্তু এই ভয় অমূলক। চুক্তির শর্তগুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই চুক্তি জটিলতা তৈরির পরিবর্তে স্থিতিশীলতা আনতে পারে, কারণ উভয় শক্তিই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী। পরিশেষে তিনি পরামর্শ দেন, জাতীয় ঐকমত্য ও সংসদীয় আলোচনার মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবায় মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম হত্যা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলী ও তার ভাইকে ফাঁসানোর…

58 minutes ago

উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল ফেডারেশন উয়েফার মধ্যকার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।…

2 hours ago

ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গভর্নর গ্যাভিন…

2 hours ago

মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক

ভোলার মনপুরা উপজেলায় ১০০ ইয়াবা উদ্ধারসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট…

2 hours ago

রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা

বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের জন্মদিনে আলিয়া ভাট শেয়ার করলেন তাদের একান্ত ভালোবাসার মুহূর্তের ছবি, যা…

3 hours ago

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন…

3 hours ago

This website uses cookies.