
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন, সেটিকে তিনি ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানকে চাপে ফেলার এই কৌশল বাস্তবে উল্টো ফল বয়ে আনছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত আমেরিকাকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার অবসানকে দ্রুততর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা কেন ট্রাম্পের এই ব্যয়বহুল ও ভুল পথে নেওয়া যুদ্ধে যোগ দিতে চাইছে না, তা স্পষ্ট। যুদ্ধ শুরুর আগে মিত্রদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি, ইরানের সরকারকে উৎখাতের কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই এবং ট্রাম্প প্রশাসন নিয়মিতভাবেই বন্ধু ও অংশীদারদের অপমান করছে। গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার মতো ভূখণ্ড দখলের হুমকি এবং বিভিন্ন দেশের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে। কার্নেগি এনডাওমেন্টের অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, এখানে ‘ডি-ডে’ আসলে ‘হতাশার দিন’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
ট্রাম্পের মিথ্যা বলার দুর্নাম তাঁর কথায় বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে। ২০২৫ সালের জুনে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার দাবি করেছিলেন এবং মার্চে বলেছিলেন ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস’ হয়েছে। অথচ যে যুদ্ধ চার সপ্তাহের বেশি চলার কথা ছিল না, তা এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত বেসেন্টও বন্ড ও মুদ্রাবাজার সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও আগের মতো নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ক্রয়ক্ষমতার সমতার হিসাবে বিশ্ব জিডিপিতে আমেরিকার অংশ অর্ধেক ছিল, যা ২০২৫ সালে ১৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় চিপের নিয়ন্ত্রণ তাইওয়ানের হাতে, এবং বিরল মৃত্তিকা ও চুম্বক উৎপাদনে চীনের আধিপত্য রয়েছে। ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে, যা ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এমন একজন ‘পাগল রাজা’র কাছে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব তুলে দিতে নারাজ, যিনি ইরানের বিরুদ্ধেও জয়ী হতে পারছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই দাদাগিরি অন্য দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বহুমুখী করার নতুন সুযোগ তৈরি করছে। চীন ও অন্যান্য দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলে বড় ধরনের বিপদে পড়বে না। বরং আমেরিকার এই অর্থনৈতিক চাপ দেশটির ভাবমূর্তি ও ‘সফট পাওয়ার’ বা প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একসময় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সুযোগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র এখন বৈষম্য, দুর্নীতি ও সামাজিক বিভাজনের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকার নেতৃত্বের বাইরে একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার প্রয়োজনীয়তা এখন বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২