Header Premium (728×90)

Categories: মতামত

তালেবানের পাঁচ বছর: অর্জন, ব্যর্থতা ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

পাঁচ বছর আগে কাবুলে তালেবানের পুনরায় ক্ষমতা দখলের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর তড়িঘড়ি করে আফগানিস্তান ছাড়ার বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময়ে বোমা হামলায় প্রায় ২০০ আফগান প্রাণ হারান। তবে আজকের কাবুল আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও শান্ত। শহরটিতে এখন আর আগের মতো ভারী নিরাপত্তাব্যবস্থা বা অস্ত্রধারী বহরের দাপট দেখা যায় না।

তালেবানের এই পাঁচ বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো পুরো দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও তুলনামূলক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাদের আগের শাসনামলের বড় ব্যর্থতা ছিল দেশজুড়ে নিয়ন্ত্রণ না থাকা, যা পরবর্তীতে তালেবানবিরোধী লড়াইয়ের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। এবার তারা সেই ভুল করেনি। এছাড়া ইসলামিক স্টেট-খোরাসান প্রদেশের হুমকিকেও তারা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বড় কোনো বিদ্রোহী চ্যালেঞ্জ না থাকায় আফগানরা দেশের এমন অনেক এলাকায় নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন, যা আগে প্রায় অসম্ভব ছিল।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তালেবান জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার বড় ধাক্কা সামলে তারা অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। নিরাপত্তার উন্নতির ফলে ব্যবসা ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ বেড়েছে। এছাড়া শরণার্থীদের পুঁজি বিনিয়োগ, কর ও শুল্ক আদায় এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। সরকার কোশ তেপা খাল, গ্যাস পাইপলাইন ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্কের মতো বড় প্রকল্পে কাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। তবে সরকারি অর্থব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েই গেছে।

তালেবানের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা দেখা গেছে সামাজিক নীতি ও নারী অধিকারের ক্ষেত্রে। গত পাঁচ বছরে নারী ও মেয়েদের অধিকার ক্রমাগত সীমিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের আধুনিক শিক্ষা বন্ধ অন্যতম। এটি আফগানিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম চরম লিঙ্গবৈষম্যের দেশে পরিণত করেছে। এর ফলে নারী চিকিৎসক ও শিক্ষকের সংকট তৈরি হচ্ছে। আধুনিক শিক্ষার পরিবর্তে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নৈতিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে।

শাসনে অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাবের অভাবও তালেবানের একটি বড় দুর্বলতা। সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা নিজের চারপাশে কেন্দ্রীভূত করেছেন। দোহা চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী অনেক নেতা গুরুত্বপূর্ণ পদ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তালেবান এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি, যার বড় কারণ নারী অধিকার ও শিক্ষার ওপর বিধিনিষেধ। বর্তমানে তালেবানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর সামরিক হুমকি না থাকলেও, ধীরে ধীরে জমতে থাকা জনঅসন্তোষ তাদের জন্য ভবিষ্যতের বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারে। তালেবান এখনো মৌলিক প্রশ্নটির উত্তর দিতে পারেনি—তারা আসলে কী ধরনের রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়।

এর প্রায় ২০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর তালেবানের প্রথম সরকারের পতন হয়েছিল।

২০২১ সালে তালেবান আবার ক্ষমতা দখল করলে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সেনারা তড়িঘড়ি করে আফগানিস্তান ছাড়ছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

Recent Posts

ইউরোপের রঙিন স্বপ্ন, দালালের ফাঁদে নিঃস্ব বাংলাদেশিরা

ইউরোপে ভালো জীবন ও উন্নত কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা তরুণ-তরুণীদের সর্বস্বান্ত করছে। স্বপ্নের দেশ ইউরোপে…

12 minutes ago

২৮০ টাকার সাইকেলে ৬০ বছর ধরে পথ চলছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সামাদ

রাজশাহীর বাগমারার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক আবদুস সামাদ প্রামাণিক ১৯৬৬ সালে কেনা একটি রেলি…

16 minutes ago

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়াতে ইরানের নতুন রণকৌশল

কূটনৈতিক একঘরে দশা, অর্থনৈতিক অবরোধ আর সামরিক আক্রমণের ধাক্কা সামলে অবশেষে ইরান তার সবচেয়ে বড়…

25 minutes ago

মৌসুমি ফ্লু যেভাবে বড় বিপদ হয়ে দেখা দিতে পারে

মৌসুমি ফ্লু সাধারণ মনে হলেও এটি অনেকের জন্য প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। সঠিক সময়ে…

27 minutes ago

চুয়াডাঙ্গায় চপ ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চয়ন নামের এক চপ-পেঁয়াজু ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।…

27 minutes ago

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’

‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর সাফল্যের পর পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ নিয়ে এসেছেন নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে…

33 minutes ago

This website uses cookies.