কুমিল্লা শহর বা এর আশপাশের এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মনোহরগঞ্জ উপজেলার পোমগাঁও ও জলিপুর এবং চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ হয়ে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব মহড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনোহরগঞ্জের ‘পিএক্স ১০’ এবং চৌদ্দগ্রামের ‘১২০৭’ নামে দুটি গ্যাং বর্তমানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত অভিযানে এই দুই গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মনোহরগঞ্জের পোমগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ‘পিএক্স ১০’ গ্যাংয়ের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে, যাকে গ্যাংটির নেতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি টিকটকে তার চাপাতি হাতে মহড়া দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই কিশোররা শুধু মহড়া নয়, এলাকায় মাদক সেবন ও মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত।
একইভাবে চৌদ্দগ্রাম থানার অভিযানে ‘১২০৭’ গ্যাংয়ের নেতা মো. তারেক হোসেন সৈকত (১৯) এবং মো. জাফর আহমদকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারেকের বাড়ি নলিশ্বর এলাকায় এবং জাফরের বাড়ি কোমারডোগা মধ্যমপাড়া এলাকায়। গত বছর এই গ্যাংয়ের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়ার একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে চালানো ৭ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৬৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, শহর বা গ্রাম নির্বিশেষে প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হবে এবং গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), কুমিল্লা শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণেই কিশোর গ্যাংগুলো আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতাও জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, কিশোররা কীভাবে অস্ত্র পাচ্ছে এবং কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কুমিল্লায় সক্রিয় বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের অদ্ভুত নামকরণের বিষয়ে জেলা ডিবি পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, মূলত টিকটক বা ফেসবুকে ভীতির সৃষ্টি করা এবং নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই তারা এমন নাম বেছে নেয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, কুমিল্লা শহর ও এর আশপাশে রতন গ্রুপ, স্ম্যাশ স্কোয়াড, কেবিজি গ্রুপসহ অন্তত ২৫টি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট ‘ঈগল গ্রুপের’ শাহাদাত হোসেনকে (১৭) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার পর রতন গ্রুপ আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে কোটবাড়িকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাং ‘কেবিজি গ্রুপের’ একাধিক সদস্য গ্রেপ্তার হয়।
দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় রোপিত চারাগাছ বাঁচিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন…
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্থানীয় সাব্বির গ্রুপের সঙ্গে অন্য একটি গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার…
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিজ্ঞানীদের কাজের পরিবেশ…
নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে দুই দিনব্যাপী পালিত হলো দ্বিতীয় 'টাইমস স্কোয়ার দুর্গা…
ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী এডেনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। তবে এ ঘটনায়…
হাইতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সে (জিএসএফ) অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাঁচটি কন্টিনজেন্টের…
This website uses cookies.