
জন্ম থেকে দুই হাত নেই মো. আলতাফ হোসেনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমাতে পারেনি। পা দিয়ে লিখতে শিখে পড়াশোনা শেষ করে তিনি নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তুলেছেন একটি বিদ্যালয়। নরসিংদীর পাঁচদোনায় ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত 'প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল'-এ বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং ১০ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। আলতাফ হোসেন পা দিয়েই লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আলতাফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বুয়েট থেকে পাস করে সরকারি চাকরির সুযোগ ছেড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো ভোলার রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাঁদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আলতাফ হোসেনের বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া অন্য দুই উদ্যোক্তার কাজের প্রসারেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।'
নায়লা শারাফ বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদানের পথ বেছে নিয়েছেন। গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং নিজেই ডিজিটাল কনটেন্টসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তৈরি করে পাঠদান সহজ করছেন।
অন্যদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে ব্যক্তিগত অর্থ ও শ্রমে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তুলে সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করেছেন তিনি, যা এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের কাজ অন্যদের উৎসাহিত করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২