
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের নেপথ্যে এক কোটি টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী বাহিনী ভাড়া করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রকল্পসংলগ্ন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মূল ফটক ভেঙে চলাচলের পথ তৈরি করতেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। রিমান্ডে থাকা আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকার পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার ইব্রাহিম’ টাকার বিনিময়ে লোক পাঠিয়ে এই হামলা চালান। এই চক্রের সঙ্গে মিরপুরের আলোচিত মামুন বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঘটনার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে ১৩ জন মিলে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন, যেখানে শাহরিয়ার ও বিকাশ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিকেলে দুটি স্থানে লোক জড়ো করা হয়। পরবর্তীতে পাঁচটি পিকআপে চড়ে এবং হেঁটে প্রায় ২০০ জন হামলাকারী আবাসন প্রকল্পের দিকে রওয়ানা দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু করে সন্ত্রাসীরা।
হামলাকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভেতরে প্রবেশ করে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে তাণ্ডব চালায়। একই সময় ওই প্রকল্পে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার রাতেই সালমান মুক্তাদির ভাঙচুর হওয়া স্টুডিওর বিবরণ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে তার তদন্তের দায়িত্ব নেয় ডিবি গুলশান বিভাগ।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রবেশপথের মূল ফটক ভেঙে দেওয়ার জন্য শাহরিয়ারকে লোক ভাড়া করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিনিময়ে তাকে ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ইব্রাহিমকে এক কোটি টাকা দেওয়ার চুক্তিতে তিনি তার অনুসারী যুবরাজকে লোক জোগাড়ের নির্দেশ দেন। হামলায় ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমন সরাসরি অংশ নেন। তাঁরা ভাষানটেক এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন ওরফে ‘মামুন বাহিনী’র লোকজনকেও এতে যুক্ত করা হয়েছিল। খুন, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মফিজুর রহমানকে সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিউগিনি আবাসন প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণেই এই হামলার সূত্রপাত। ওই ৩৫ কাঠার মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জমি রয়েছে, যেখানে তিনি একটি কন্ডোমিনিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন। তবে নিউগিনি প্রকল্পের মালিক রাস্তা না দিলে সেখানে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে প্রকল্পের মূল ফটক ভেঙে রাস্তা বের করে দেওয়ার বিনিময়ে শাহরিয়ারকে উপহার হিসেবে প্রস্তাবিত ভবনের একটি ফ্ল্যাট ও ইট-বালু সরবরাহের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। মামলায় মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তিনি জামিন পান। বক্তব্যের জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন জানান, এই হামলা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার আসামিদের ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং হামলাকারীদের ব্যবহৃত পাঁচটি পিকআপ গাড়ি ভাড়া নেওয়ার নেপথ্যে কারা ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২