
বাংলাদেশ আর কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না; বরং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্ভরশীলতার পরিবর্তে সমমর্যাদা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ভরশীলতার দিন শেষ। বাংলাদেশ কোনো দেশের সহায়তার ওপরও নির্ভর করতে চায় না, বরং বিনিয়োগের অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কল্যাণ, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্বের অবশ্যই শক্তিশালী মানবিক দিক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের কর্মীদের শুধু শ্রমশক্তির উৎস হিসেবে নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পৃক্ততার অনেক সুযোগ রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পরবর্তী অধ্যায় শুধু পরিমাণ দিয়ে নয়, বরং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। বেশি কর্মী পাঠানোর অর্থ হতে হবে দক্ষতা অর্জন, বেশি বাণিজ্যের অর্থ পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, বেশি বিনিয়োগের অর্থ প্রযুক্তির প্রসার এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক সম্পর্কের অর্থ দৃঢ় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, সৌদি আরবের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এছাড়া সৌদি আরবের যুবরাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যা প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা তাকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে হাত পাতা কোনো দেশ হবে না, বরং বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা করবে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সফর বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সম্পর্ককে সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি শুধু প্রচলিত প্রাথমিক পর্যায়ের শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পেশাদার ও দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর দিকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২