
ময়মনসিংহের বাঁশবাড়ি কলোনির চার তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন দেয়াল বাগান পরিদর্শনে গেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই কলোনি পরিদর্শন করেন তিনি। মূলত প্রধানমন্ত্রী পাঠানো একটি ছবি দেখেই তিনি এই এলাকা পরিদর্শনে উদ্বুদ্ধ হন। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের এই অনন্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
একসময় আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়ানো বাঁশবাড়ি কলোনির ভোল পাল্টে গেছে চার তরুণের হাত ধরে। ২০২৩ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করার পর পরিবেশ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার নামের চার যুবক। তাঁরা বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান করার পরিকল্পনা জানান এবং স্থানীয়দের সমর্থন পান। মাত্র তিন মাসে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগকে টব বানিয়ে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার গাছ লাগানো হয়। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ শোভা পাচ্ছে। রাতে হাসনাহেনার সুবাস ছড়ানো এসব গাছের ফাঁকে কাগজে লেখা রয়েছে—‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’।
পরিদর্শন শেষে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এই বাঁশবাড়ি কলোনির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছোট একটি সড়ককে স্থানীয় মানুষ যেভাবে সুন্দর করে তুলেছেন, তা দেখে তিনি অভিভূত। তিনি বলেন, মানুষের বসবাসের জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখা এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ উন্নত করা প্রয়োজন। দেশের অন্যান্য শহরেও এই মডেল চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে তা ভালো ফল বয়ে আনবে।
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গাছ লাগানোর আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম। এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান বলেন, "আমাদের ছোট একটি উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। আজ মন্ত্রী এসে ঘুরে দেখলেন। এটি আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি প্রেরণার।"
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২