Header Premium (728×90)

Categories: জাতীয়

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট, ঝুঁকিতে হাজারো শ্রমিক

দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্রুত নগরায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়লেও চরম অবহেলিত রয়ে গেছে শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা। ৩৩ হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটলেও এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল, বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার কিংবা বার্ন ইউনিট। ফলে যেকোনো বড় ধরনের শিল্প দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা এখানকার হাজার হাজার কর্মীর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর তথ্যমতে, দীর্ঘমেয়াদে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠছে এই মেগা শিল্পাঞ্চল। বর্তমানে এখানে ১৭টি কারখানা চালু রয়েছে এবং আরও ২৪টি কারখানা নির্মাণাধীন। বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। এই শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে শ্রমিক আবাসন, বাজার ও ব্যবসা সম্প্রসারিত হওয়ায় আশপাশের ইছাখালী, কাটাছড়া, মিঠানালা, মঘাদিয়া, শাহেরখালী ও মায়ানী ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি এই জোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

এই চিকিৎসা সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট ফার্মিক স্টিল লিমিটেডের কারখানায় ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায়। সেখানে ফার্নেসের গলিত লোহা ছিটকে পড়ে এক চীনা প্রকৌশলীসহ চারজন দগ্ধ হন। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং, শ্রমিক শরিফুল ইসলাম ও মনির হোসেন মারা গেছেন। জুয়েল নামের আরেক শ্রমিক এখনো চমেকের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে স্থানীয় পৌর হাসপাতালগুলোর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। আর সেখান থেকে চমেক হাসপাতালের দূরত্ব আরও ৬০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ ৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে পথেই রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। চমেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. প্রদীপ জানান, দগ্ধ বা গুরুতর আহত রোগীদের ক্ষেত্রে 'গোল্ডেন আওয়ার' বা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছাকাছি ট্রমা ও বার্ন সেবা থাকলে মৃত্যুর হার অনেক কমানো সম্ভব হতো।

শিল্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রায়সুল ইসলামও মনে করেন, বিশাল এই শিল্পাঞ্চলে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় এখানে দ্রুত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু চিকিৎসা সেবাই নয়, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শিল্পাঞ্চলের সড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ট্রাফিক সংকেত, সিসিটিভি এবং নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।

এই সংকটের বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়েছেন বেজার পরিচালক সালেহ আহমদ। তিনি জানান, উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

Recent Posts

গাজীপুরে অর্থাভাবে থমকে গেছে মেধাবী শামীমের চিকিৎসা, বাবার আকুতি

পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন ছিল মেধাবী তরুণ শামীম রানার। কিন্তু হঠাৎ এক…

44 seconds ago

শ্যামনগরের চিংড়ি হ্যাচারিতে দেশের প্রথম ফোল্ডিং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ওশান হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দেশের প্রথম ফোল্ডিং হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের যাত্রা শুরু…

4 minutes ago

পুঠিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে মানুষ

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান, সচিব ও উদ্যোক্তার অনুপস্থিতিতে সেবা নিতে আসা মানুষ…

22 minutes ago

মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে জাল না ফেলার আহ্বান মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় মাছ ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণের স্বার্থে মা ইলিশ রক্ষায় সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে…

31 minutes ago

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘হোন্ডাবাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সড়কবাতি চুরি হয়ে যাওয়ার পর থেকে পুরো সড়ক অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকছে। এই…

35 minutes ago

দুর্গাপুরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কে রাবিশ ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ…

52 minutes ago

This website uses cookies.