
খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামে ২০০৬ সালে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সুপার জুট মিল। একসময় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা অর্জন করত এবং বিশ্বের ২৪টি দেশে তাদের পাটজাত পণ্য রপ্তানি হতো। বেসরকারি খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাট রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তিনবার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও লাভ করে। স্থানীয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মারাত্মক ঋণের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একই পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে গড়ে ওঠা সুপারেক্স লেদারও।
২০১৬ সালে খুলনার উত্তরডিহি গ্রামে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সুপারেক্স লেদার প্রতিষ্ঠা করেন উদ্যোক্তা এম ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির অর্থায়নের আশ্বাসে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদপ্রাপ্ত এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে স্বীকৃত। ইতালির প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৪ লাখ ডলার ব্যয়ে এখানে একটি ইটিপি প্ল্যান্টও স্থাপন করা হয়েছিল। তবে উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের সংকটে পড়ে। ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫০ কোটি টাকার চামড়া কেনা হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণের রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণের জন্য ব্যাংক থেকে অর্থায়ন পাওয়া যায়নি। ফলে ৮০ টাকা দরে কেনা চামড়ার মান ও দাম উভয়ই কমে প্রতি বর্গফুট ২০ টাকায় নেমে আসে।
উদ্যোক্তা ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়ার অভিযোগ, ২০১৭ সালের পর থেকে ব্যাংক থেকে চলতি মূলধন না পাওয়ায় উৎপাদন ও ব্যবসা সংকুচিত হতে থাকে। তিনি তৎকালীন ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান দুটিকে দুর্বল করে দখলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। বর্তমানে সুদাসলসহ দায় বেড়ে প্রায় ৯০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ব্যাংকের সহযোগিতা পেলে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। ইসলামী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার ব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সার্কুলারের আওতায় গত ডিসেম্বরে ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপিমুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা গ্রহণ করেনি। এছাড়া ঋণ তিন-চারবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে এবং সর্বশেষ জুলাই মাস থেকে কিস্তি পরিশোধের কথা থাকলেও ইতোমধ্যে তিনটি কিস্তি বকেয়া পড়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটি ঘুরে দাঁড়াবে নাকি ঋণের বোঝায় স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
খুলনার সুপার জুট মিল একসময় প্রতিদিন ২০-৩০ লাখ টাকা লাভ করত। বিশ্বের ২৪টি দেশে রপ্তানি হতো পাটজাত পণ্য। বিদেশি ক্রেতারা পণ্য পাওয়ার আগেই দিতেন অগ্রিম অর্থ। রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানই আজ ঋণের ভারে বিপর্যস্ত। একই পরিণতির পথে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে গড়ে ওঠা সুপারেক্স লেদারও।
ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৫-১৬ সালের দিকে ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত তহবিল থাকায় ভালো ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সুপার গ্রুপকে কী ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং পরে কেন বিনিয়োগ করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে পারেননি। কারণ, ওই সময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট শাখায় কর্মরত ছিলেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২