
বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির আবেদনের শেষ দিনে সচিবালয়ের উল্টো দিকে পরিবহন পুল ভবনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বুধবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত কয়েক শ মানুষকে আবেদন জমা দিতে দেখা যায়। গত ১ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ৭ অক্টোবরের পর আর কোনো নতুন আবেদন নেওয়া হবে না। এরপর থেকেই দেশজুড়ে আবেদন জমা দেওয়ার চাপ বাড়তে থাকে, যা শেষ দিনে এসে চরম রূপ নেয়। তবে শেষ দিনে ঠিক কতজন আবেদন করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এদিন দুপুরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ৭ অক্টোবরের পর বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন কোনো আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন আবেদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দুই-এক বছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া উচিত ছিল। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, এ পর্যন্ত যেসব আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চুলচেরা যাচাই-বাছাই করা হবে। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
মন্ত্রণালয়ের নিচতলায় গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকে নিয়োজিত দুজন পুলিশ সদস্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করছেন। স্তূপ হয়ে থাকা এসব আবেদন কিছুক্ষণ পরপরই ভবনের পঞ্চম তলায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কক্ষে পাঠানো হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়া আবেদনপত্র জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) জমা নেওয়া হয় না। তাই মন্ত্রীর স্বাক্ষর সংবলিত সুপারিশ নিয়ে আবেদনকারীরা তা জামুকায় জমা দিচ্ছিলেন। মন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ আবেদন জমা পড়ায় আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সুপারিশকৃত আবেদনগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে।
শেষ দিনে আবেদন করতে আসা ব্যক্তিদের মুখে উঠে এসেছে অতীতে তালিকাভুক্ত না হতে পারার নানা বঞ্চনার কথা। যশোর থেকে আসা ৭৩ বছর বয়সী আলতাফ হোসেন জানান, তিনি আগেও আবেদন করেছিলেন কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তাঁর নাম তালিকায় ওঠেনি। মানিকগঞ্জের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের দাবি, বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বারবার আবেদন করেও তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। চাঁদপুর থেকে আসা হায়দার খান অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে বারবার তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়েছিল।
জমাকৃত আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আবেদনকারীরা নিজেদের বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন তার বিবরণ ও বিভিন্ন প্রমাণাদি যুক্ত করেছেন। অতীতে রাজনৈতিক কারণে তালিকায় স্থান না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে। এদিকে মন্ত্রণালয়ের প্রাঙ্গণে উপস্থিত একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা চালুর পর থেকেই ভুয়াদের তালিকায় ঢোকার প্রবণতা বেড়েছে। এবার যাতে কোনো অমুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান না পান, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২