
অক্টোবর মাসের শুরু থেকে কক্সবাজার উপকূলের জেলেরা সাগরে প্রচুর ইলিশ পাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় মাছের আকাল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এই প্রাপ্তি জেলেদের মাঝে স্বস্তি আনলেও, বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। শহরের নুনিয়াছটা ফিশারিঘাটে অবস্থিত সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে অন্তত ৪৫টি ট্রলার ভিড়তে দেখা গেছে, যেগুলোর প্রতিটি জালেই ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। কোনো ট্রলারে তিন শ আবার কোনো ট্রলারে আড়াই হাজারের বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে। ইলিশের পাশাপাশি মাইট্যা, গুইজ্যা, পোপা, কামিলা ও রুপচান্দাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছও রয়েছে।
ফিশারিঘাটে ইলিশের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। পাইকারি দরে ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় এবং ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের অন্য কোথাও বড় আকারের ইলিশ সেভাবে ধরা না পড়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ফলে দাম চড়া। অধিকাংশ ইলিশের পেটে ডিম থাকায় এবং ঢাকার বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ৯০ শতাংশ মাছই রাজধানীমুখী হচ্ছে।
জেলে ও ট্রলার মালিকরা বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন। একদিকে ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ট্রলার পরিচালনার উচ্চ খরচ। কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সাগরে একটি ট্রিপে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হলেও অনেক সময় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মাছ পাওয়া যায়, যা মালিকদের লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক মালিক বাধ্য হয়ে ট্রলার বিক্রি করে দিচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞার সময় বিদেশি জাহাজ ইলিশ ধরে নিয়ে যায়, যা রোধে সজাগ থাকা প্রয়োজন।
‘এফবি সোহেল’ ট্রলারের মাঝি আবদুল মুনাফ জানান, উপকূল থেকে ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ইলিশের ঝাঁক পাওয়া যাচ্ছে। তিন দিন আগে ১২ জন জেলে নিয়ে সাগরে নামার পর গত রোববার রাতে তাঁর ট্রলারে ২ হাজার ৪০০টি ইলিশ ধরা পড়ে। সকাল সাড়ে ৯টায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছগুলো আনা হলে ৩০-৪০ জন ব্যবসায়ী ভিড় জমান এবং দর-কষাকষির পর তিনজন ব্যবসায়ী মিলে ৪৪ লাখ টাকায় মাছগুলো কিনে নেন। এতে প্রতি কেজির দাম পড়েছে প্রায় ২ হাজার টাকা। ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, এই ইলিশ ঢাকার বাজারে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হবে।
কক্সবাজার জেলায় ছোট-বড় ৬ হাজার ট্রলারে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার জেলে কাজ করেন। নিষেধাজ্ঞার সময় ঘনিয়ে আসায় জেলেরা এখন সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। খুরুশকুলের আরেকটি ট্রলারের জেলেরা ১ হাজার ১০০ ইলিশ বিক্রি করে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। ট্রলারের জেলে কবির আহমদ বলেন, বন্ধের ঠিক আগে গভীর সাগরে বিপুল ইলিশ ধরা পড়লেও ভাগ্য খারাপ, কারণ দুই দিন পরেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি জেলে ও ট্রলারের মালিকেরা হতাশ, কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত দুই মাস জেলেরা সাগরে নামতে পারেননি এবং মাছও ছিল না। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে ১০-১২ দিন ইলিশের দেখা পাওয়ার পর কিছুদিন ইলিশ উধাও থাকলেও ২ অক্টোবর থেকে আবার তা ধরা পড়তে শুরু করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২