
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ১৬ দিনে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫০৮ জন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। লামিয়া সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আউলিয়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা ছিল। তার বাবা মৃত ইমাম হোসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, চার দিন জ্বরে ভোগার পর স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে লামিয়ার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাকে ফৌজদারহাটের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, লামিয়া চার দিন জ্বরে ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে তাকে চমেকে রেফার করা হলেও পরিবারের সদস্যরা নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স আরও বলেন, সীতাকুণ্ড এখন ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৫০৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন দুই শিশুসহ পাঁচজন। তিনি জ্বরকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য পুরুষ, নারী ও শিশু ওয়ার্ডে মোট ১০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের ঘাটতি নেই। জটিল রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরের উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। সীতাকুণ্ডের শিল্পাঞ্চল, জাহাজভাঙা ইয়ার্ড, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হতে পারে। পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতি, পুরোনো টায়ার, ক্যান, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিও এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড পৌর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংসে প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এককালীন অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রজননস্থল ধ্বংসের ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন। পাঁচজনের মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২