
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩৮
লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন গুণের বেশি বন্দি গাদাগাদি করে দিন কাটাচ্ছেন। এর ফলে বন্দিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও স্যানিটেশন সংকট দেখা দিয়েছে। কারাগার সূত্র জানিয়েছে, মাত্র ১৯০ জন বন্দির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৬১৯ জন অবস্থান করছেন। কোনো কোনো সময় এই বন্দির সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যায় বলেও জানা গেছে।
ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বন্দি থাকায় আবাসন ব্যবস্থা সামাল দিতে লালমনিরহাট কারাগার কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক বন্দিকে লকআপের ভেতরে এবং বাইরের বারান্দার সংকীর্ণ জায়গায় থাকতে হচ্ছে। অতিরিক্ত মানুষের গাদাগাদিতে স্যানিটেশন ব্যবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক বন্দির স্বাস্থ্যসেবা দিতে নিয়োজিত মাত্র একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্টকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বন্দি সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে একটি বিশেষ কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বন্দির পরিবারের সূত্রমতে, সম্প্রতি মাদক মামলার আসামিদের লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি এক মাস ধরে কোনো আইনি সহায়তা দেয়নি। আইনজীবীদের এই সিদ্ধান্তের কারণে মাদক মামলার আসামিদের জামিন প্রক্রিয়া আটকে যায়, যার ফলে কারাগারে বন্দির সংখ্যা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
সম্প্রতি জামিন পাওয়া পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকার এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতিরিক্ত বন্দি থাকার কারণে কারাগারে স্যানিটেশন, গোসল ও আবাসনের মতো মৌলিক বিষয়ে বন্দিরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তবে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেলার জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে তারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, কারাগারে বন্দিদের খাবারের মান ঠিক রাখা, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেল কর্তৃপক্ষ সর্বদা সজাগ রয়েছে। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি কোনো জটিল রোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে সদর হাসপাতাল কিংবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে কারাগারের এই অমানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা 'ফিডার'-এর নির্বাহী পরিচালক ফিরোজা বেগম। তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত বন্দি রাখার কারণে কারাগারে বন্দিরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতির দ্রুত ও কার্যকর সমাধান করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২