
দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব কমিটি বিলুপ্ত বা প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল জারি করেন।
গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে টেলিগ্রাম অ্যাপের সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথ্য অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষকদের নোটিশ পাঠায়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী—চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস—মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন পাঠান। আবেদনে যাচাইহীন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা অবিলম্বে বিলুপ্তির দাবি জানানো হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে আবেদন নিষ্পত্তিতে নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে ৬ সেপ্টেম্বর তারা হাইকোর্টে রিটটি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও শিহাব উদ্দিন খান। শুনানি শেষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, কোনো অনলাইন পোর্টালের সংবাদের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো বিধান ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নেই। তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নেই, কারণ এটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার, যা সংবিধানে স্বীকৃত। তাই এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়েছে।
হাইকোর্টের রুলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২