
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের এক দিন পর আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম ও বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার নিজেদের কোনোভাবেই সামলাতে পারছেন না। কোটবাড়ির গন্ধমতী (দক্ষিণ বাগমারা) এলাকার নুরজাহান ভিলার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তাঁরা। দরজার পাশের কাঠের ফলকে লেখা ‘অপ্রতিমদের বাসা, প্রযত্নে নাহিদ ও শাহরিয়ার’ যেন পরিবারটির সাজানো পৃথিবীর এক করুণ স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার একটাই মাত্র ছেলে। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব। তোরা আইফোন নিয়ে যেতি, কিন্তু আমার ছেলেকে খুন করলি কেন? আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। অপ্রতিম আমার বুকের মানিক, তোকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব, বাবা।’ সন্তানকে অনেক কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। তিনি আক্ষেপ করে প্রশ্ন তোলেন, কুমিল্লায় চাকরি করতে এসে কেন তাঁর সন্তানকে ক্যাম্পাস এলাকার পাশেই এমন নির্মমতার শিকার হতে হলো।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মুঠোফোনের যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামের ব্যবসা করেন। সন্তানকে হারিয়ে বাক্রুদ্ধপ্রায় এই বাবা বলেন, ‘অপ্রতিম ছিল আমাদের পৃথিবী। সামান্য একটি আইফোনের জন্য আমার ছেলেটা আজ পৃথিবীতে নেই। কেন আমার ছেলেটাকে এভাবে হত্যা করা হলো, আমি তার বিচার চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম।’
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের স্মৃতিচারণা করে ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি ছেলেকে খাইয়েছিলেন এবং বিকেলে একটি উপহার দেওয়ার কথা বলে বাসায় থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু বন্ধুদের সাথে দেখা করার কথা বলে বাইরে গিয়ে অপ্রতিম আর ফিরে আসেনি। এরপর তাঁরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালান। অবশেষে আজ দুপুরে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। সে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান বলেন, অপ্রতিম পড়াশোনায় ভালো এবং অত্যন্ত শান্ত ও মিশুক স্বভাবের ছিল। বিদ্যালয়ে কখনো কোনো ঝামেলায় তাকে জড়াতে দেখা যায়নি এবং সহপাঠীদের কাছেও তার সুনাম ছিল। অপ্রতিমের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার সহপাঠী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
.কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ জঙ্গল থেকে উদ্ধার.নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন ২০১৫ সালে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২