
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এক বছরের মেয়াদে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থা পুনরুদ্ধার করাকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষ diplomat ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সম্প্রতি শুরু হওয়া জাতিসংঘের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ‘উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম ‘ইউএন নিউজ’-কে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ড. খলিলুর রহমান বিশ্বসংস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘের প্রতি যে প্রত্যাশা ছিল এবং বর্তমানে সদস্য দেশগুলোর প্রাপ্তির মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা দূর করার ওপর তিনি জোর দেন।
আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. খলিলুর রহমান ১৯৪৫ সালের ইতিহাস স্মরণ করেন। সে সময় ইয়াল্টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট, রুশ প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্তালিন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল প্রায় ৮ দিন বৈঠক করে বিশ্বযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এই সংস্থার রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। সান ফ্রান্সিসকোতে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ আট দশকে বড় কোনো বৈশ্বিক যুদ্ধ না হওয়া এবং অনেক দেশের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পাওয়াকে তিনি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তবে অনেক সংঘাত ঠেকাতে না পারা এবং নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থার কারণে মানুষের মনে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, তাও তিনি স্বীকার করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের মোট বাজেটের মাত্র ৪ শতাংশ মানবাধিকারের পেছনে ব্যয় করা হয়, যেখানে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, এআই মানুষের কার্যক্রমকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বড় শক্তি হতে পারে, তবে এর সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক রূপ মানবতার জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। উদ্ভাবনের গতি না কমিয়ে বরং এর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সীমারেখা তৈরি করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। আর এই প্রক্রিয়ায় শুধু সরকার নয়, প্রযুক্তি নির্মাতা ও ব্যবহারকারী সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি।
সাধারণ পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, যদি এই পরিষদের কোনো গুরুত্ব না থাকত, তবে বিশ্বনেতারা এই উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে এখানে আসতেন না। সাধারণ পরিষদ বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে দেয়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিজের সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি একে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেন। অতীতে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্বরতা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং গর্ভবতী মায়েদের নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাগুলো স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রশংসা করে তিনি জানান, গত বছর জাতিসংঘ মহাসচিবের কক্সবাজার সফরের সময় এক রমজানের সন্ধ্যায় লাখেরও বেশি শরণার্থী ‘আমরা বাড়ি ফিরতে চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইফতারে জড়ো হয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিখেছেন যে, সহিংসতা কোনো সমাধান নয়; কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
চার দশকেরও বেশি সময় আগে একজন বাংলাদেশি সভাপতির অধীনে সাধারণ পরিষদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ড. খলিলুর রহমানের। আজ তিনি নিজেই সেই সভাপতির আসনে ফিরেছেন। মেয়াদের শেষ দিনে নিজের অর্জন সম্পর্কে ড. খলিলুর রহমান বলেন, তিনি যেদিন তার উত্তরসূরির হাতে সভাপতির হাতুড়ি তুলে দেবেন, সেদিন যেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জাতিসংঘের সংস্কার, আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়ে একমত করাতে পারেন—এটাই হবে তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২