
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ০৭। চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপের পাশাপাশি ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথার মতো উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা অনুভূত হওয়া এবং প্রখর রোদ ও মেঘলা আকাশের অস্থিতিশীলতায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বর নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যদিও চিকিৎসকরা অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, তবে হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হালকা বৃষ্টির পর তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে অনেকের মধ্যে জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। পরিবারের একজন আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাগুলোতে ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডেঙ্গুর ভয়ে অনেকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকদের মতে, বৃষ্টিতে ভিজলেই ভাইরাস জ্বর হয়—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়; বরং তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তন, মানুষের ঘনিষ্ঠ অবস্থান এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস ছড়াতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি সংক্রামক রোগ যা নাক, গলা ও ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে জেলায় ৩,১২৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১৪ জন। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের ১৮ দিনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩৬ জন হলেও আগস্টে তা দ্বিগুণ হয়ে ১,২০২ জনে পৌঁছায়। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১,০৯১ জন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে জ্বর নিয়ে আসা রোগীর প্রচণ্ড চাপ লক্ষ্য করা গেছে। হাসপাতালের ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেককে ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীদের সিট না থাকলেও ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একরাম হোসেন জানান, আড়াইশ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে চার শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন এবং বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আশিকুল ওহাব চৌধুরী পরামর্শ দিয়েছেন যে, জ্বরের কারণ নিশ্চিত না হয়ে নিজের মতো ওষুধ সেবন করা ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি জানান, জ্বরের ১০ দিনের মাথায় আইসিটি ফর ডেঙ্গু পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, জ্বর কমে যাওয়ার পরও অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা বারবার বমির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার এবং হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখার মতো সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২