
রাজধানীর বনানীর ২৬ নম্বর সড়কের রাজউক কোয়ার্টারে ঢাকা ওয়াসার পানির সংযোগের মিটার বাক্সে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালের দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ‘একশোতে একশো’ শীর্ষক বিশেষ মশা নিধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে এই চিত্র দেখা যায়। মিটার বাক্সের ঢাকনা খুলে দেখা যায়, চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর ওই বাক্সে পানি জমে আছে। পরীক্ষার জন্য লম্বা হাতলের একটি গোল চামচ দিয়ে পানি তুলে আনলে তাতে মশার লার্ভা কিলবিল করতে দেখা যায়। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সেখানে মশার ওষুধ ছিটিয়ে লার্ভাগুলো ধ্বংস করেন।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে ডিএনসিসি এই বিশেষ কর্মসূচি চালাচ্ছে। কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে শুক্রবার সকালে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ডিএনসিসির মশা নিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কুইক রেসপন্স দলের সদস্য ও বিডি ক্লিনের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী জড়ো হন। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে দলগুলোকে ব্রিফিং দেওয়ার পর ৯টার দিকে ১০টি আলাদা দল নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় অভিযানে বেরিয়ে পড়ে। প্রতিটি দলে একজন সুপারভাইজার, ৪-৫ জন মশা নিধনকর্মী, ৩ জন কুইক রেসপন্স সদস্য, ২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৫-৬ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ১৫ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উত্তর সিটির আওতাধীন হাসপাতালগুলো থেকে ১ হাজার ৬৭৮ জন ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের ঠিকানা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ১০০টি এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোগীভিত্তিক নজরদারি, জিও-ট্যাগিং এবং উৎসস্থল নির্মূলের মাধ্যমে মশার ঘনত্ব কমানোর সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের সময় রাজউকের যান্ত্রিক ওয়ার্কশপেও এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া যায়। সেখানে এক্সকাভেটরের খনন করা অংশ, পুরোনো টায়ার, ওয়ানটাইম বিস্কুটের পাত্র এবং খোলা বোতলে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। ওয়ার্কশপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, রাজউকের কর্মী সাদ্দাম হোসেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ দিন হাসপাতালে ছিলেন। আরেক আনসার সদস্য রুবেল রানা জানান, সেখানে মশার উপদ্রব চরম, কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে আগে কেউ মশা নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বনানীর রাজউক কোয়ার্টারে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ১ নম্বর দলের সুপারভাইজার আবদুল কুদ্দুস জানান, এর আগেও সেখানে চারটি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়েছিল। কোয়ার্টারের বাসিন্দা ও রাজউকের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য কর্মী থাকলেও তারা সঠিকভাবে কাজ করেন না। এছাড়া ভবনের জানালা দিয়ে ময়লা ফেলার কারণেও মশার উৎস তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান, কোয়ার্টারের ১২ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলার এক বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২