রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেনারসি পল্লী এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কালের বিবর্তনে এই শিল্পের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাঁতিদের উন্নয়নের জন্য নির্মিত একটি দ্বিতল ভবনও দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) এই ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন ধ্বংসের মুখে। ভবনটি রক্ষায় স্থানীয়ভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
একসময় গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের হাবু তাঁতিপাড়া তাঁতের খটখট শব্দে মুখর থাকত। ঘরে ঘরে বেনারসি ও কাতানসহ নানা ধরনের শাড়ি তৈরি হতো। এই শিল্পের প্রসারে বিসিক উদ্যোগ নিলেও বর্তমানে তা প্রায় বিলুপ্ত। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাবু তাঁতিপাড়ায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিসিকের দ্বিতল ভবনটির চারপাশে আগাছা জন্মেছে, দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব এবং বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। দরজা-জানালা ও ভেতরের আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য অবকাঠামো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমনকি সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিসিক রংপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাচড়ার বেনারসি পল্লীর উন্নয়ন ও তাঁতিদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রথম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের আওতায় ৫টি ট্রেডে ৪৩টি ব্যাচে মোট ৮৬০ জন তাঁতিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের শেষ দিকে বেনারসি শাড়ি ও অন্যান্য কাপড় প্রদর্শন এবং বিক্রির জন্য ২৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ২৫২ বর্গফুটের একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় কোনো প্রকল্প চালু না হওয়ায় ভবনটি আর কোনো কাজে আসেনি এবং সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
হাবু গ্রামের তাঁতশিল্পের প্রতিষ্ঠাতা আবদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দীর্ঘদিনের অযত্নে তাদের চোখের সামনে এই সম্ভাবনাময় শিল্পটি শেষ হয়ে গেছে। বিসিকের কর্মকর্তারা সময়মতো নজর দিলে এবং তাঁতিদের প্রশিক্ষণ, সুতা, মেশিন ও বাজারের ব্যবস্থা করলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা যেত। সরকারি টাকা খরচ করে ভবন বানানো হলেও ১৪ বছর ধরে সেটি পড়ে আছে। স্থানীয় তাঁতশিল্পী মনোয়ারুল ইসলাম ও সুমন মিয়া জানান, সরকারি সহযোগিতায় বেনারসি শিল্প আরও বড় হবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু ভবনটি চালু না হওয়ায় এবং নতুন প্রকল্প না আসায় অনেকে বিকল্প কর্মসংস্থান বেছে নিয়েছেন। তাঁতশিল্পী মোহছেনা বেগম বলেন, ভবনটি ফেলে না রেখে সরকারি নিয়মে তাঁতিদের ব্যবহারের সুযোগ দিলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি কাজে লাগত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গঙ্গাচড়ার তাঁতশিল্প বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিভিন্ন শোরুমে ভারত থেকে আনা শাড়ি স্থানীয় বেনারসি বলে বিক্রি করা হচ্ছে, যাতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। রংপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এহেছানুল হক এ বিষয়ে বলেন, দ্বিতীয় প্রকল্প চালু না হওয়ায় ভবনটিতে কার্যক্রম চালানো যায়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে শাড়ি তৈরির খরচের চেয়ে ভারত থেকে এনে বিক্রি করা বেশি লাভজনক হওয়ায় শোরুমগুলো আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। তবে বর্তমান সরকারের ‘এক পণ্য, এক গ্রাম’ প্রকল্পের আওতায় বেনারসি পল্লীর উন্নয়নে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে নতুন করে কাজ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
রাজধানীর শাহ আলী থানার ডি ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের পাশে একটি কালো পলিথিনের ব্যাগ থেকে…
সৌদি আরবের মক্কা নগরীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা…
রাজশাহীর মোহনপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা জান্নাতুন নিহত হয়েছেন। এ সময় বাবাকে কুপিয়ে জখম…
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী সিভিল…
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাসহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সম্ভাব্য বিপদ বা ঝুঁকির বিষয়ে…
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরাতে জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি জামায়াত…
This website uses cookies.