
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২: ১৫ মিনিটে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হবিগঞ্জের বাহুবলে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় পড়া মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করেছে।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশেই বাহুবল অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে দীর্ঘ এক দশক পর, ২০২৩ সালের ৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। বর্তমানে ট্রমা সেন্টারের নির্ধারিত ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং কয়েকটি কক্ষ আনসারদের অস্থায়ী ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত জুন মাসে কেবল ১৫ দিনের জন্য এখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর থেকে শুরু করে নবীগঞ্জের আউশকান্দি পর্যন্ত অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ। এখানে প্রায়ই বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু কাছাকাছি কোনো বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার না থাকায় গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক সময় পথেই রোগীর মৃত্যু হয় অথবা অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই ট্রমা সেন্টারের জন্য কোনো চিকিৎসক, নার্স বা টেকনিশিয়ানের পদ এখন পর্যন্ত অনুমোদিত হয়নি। এছাড়া পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হয়নি।
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী জানান, ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস এ বিষয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল পদায়ন না হওয়া এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি না পাওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যায়নি। তবে দ্রুত এটি চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২