
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৫৫
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কাঁচামাল, সুতা ও রঙের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবসহ নানা সংকটে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী তাঁতশিল্প। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কম দামের মেশিনজাত কাপড়ের সঙ্গে টিকে থাকতে না পেরে এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে যাচ্ছেন মনিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষ। এক সময়ের মুখরিত তাঁতপল্লিগুলো এখন দিনে দিনে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে কুলাউড়ার মনিপুরী তাঁতপল্লি ঘুরে দেখা গেছে, একসময়ের ব্যস্ত এই জনপদে এখন মাত্র ১৫ থেকে ২০টি কাঠের তৈরি সনাতনী তাঁত মেশিন সচল রয়েছে। এগুলো দিয়ে মনিপুরী নারীরা কেবল নিজেদের ব্যবহারের জন্য শাড়ি, ওড়না ও গামছা তৈরি করছেন। অথচ আড়াই যুগ আগেও কর্মধা ইউনিয়নের লংলা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ভান্ডারীগাঁও, ফটিগুলি ও নলডরী গ্রামে দেড় শতাধিক তাঁতপল্লি সচল ছিল। সে সময় তিন শতাধিক মনিপুরী নারী-পুরুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাদের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন বায়িং হাউজের মাধ্যমে বিদেশেও রপ্তানি হতো।
স্থানীয় তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন খরচ এবং বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। ভান্ডারীগাঁও গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা পুষ্পিতা ও শিউলী দেবী জানান, সনাতনী পদ্ধতিতে রঙিন মোটিফসহ একটি শাড়ি তৈরি করতে দুই দিন সময় লাগে। এক কেজি সুতা দিয়ে তিনটি শাড়ি বানানো যায়। একটি মেশিনে একসঙ্গে সাত-আটটি শাড়ির সুতা প্রসেসিং করতে চার-পাঁচদিন সময় লেগে যায়। একটি শাড়ি তৈরিতে মজুরিসহ খরচ হয় ১ হাজার ৩০০ টাকা, যা বাজারে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। পরিশ্রম, বিদ্যুৎ বিল এবং সুতা রঙ করার খরচ বাদ দিলে মাত্র ২০০ টাকা লাভে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই এখন সরকারি-বেসরকারি চাকরি, কৃষি ও অন্যান্য পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন।
ভান্ডারীগাঁও গ্রামের সরকারি চাকরিজীবী প্রদীপ সিংহ বলেন, মনিপুরী তাঁতশিল্প তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নান্দনিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহু পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে এটি বিলুপ্তির পথে। ফটিগুলি গ্রামের জিহারি সিংহ, নলডরী গ্রামের দিলীপ কুমার সিংহ এবং ভান্ডারীগাঁওয়ের সুরঞ্জিত সিংহ ও গৌর চন্দ্র সিংহ জানান, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আবার বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২