সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সমন্বয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছিল, তা বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত আট বিভাগব্যাপী ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
ফজলুর রহমান বলেন, বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আজ নানা সংকটের মুখে। এ পরিস্থিতিতে কবীর ও লালনের মানবতাবাদী চিন্তা ও দর্শনকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে হবে। তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর প্রতিনিধি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান বলেন, একসময় লালনকে মূলত লোকসংগীতের পরিসরে পরিচিত করা হলেও বর্তমানে সরকার তাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে এবং তার দর্শন ও সংগীতকে আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী বলেন, কবীর ও লালন উভয়ই একেশ্বরবাদী চিন্তায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং মানুষের পাশাপাশি সব জীবের প্রতি ভালোবাসা ও স্রষ্টার প্রেমের সাধনার কথা বলেছেন। তবে বর্তমানে কিছু ব্যক্তি লালন সাঁইয়ের গানের বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে সুফি সংগীত ও মাজারকেন্দ্রিক সংস্কৃতিচর্চায় বাধা সৃষ্টি করছেন, যার প্রতিবাদ জানান তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ বলেন, সন্ত কবীর লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ, কামনা ও ক্রোধের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কবীর, লালন সাঁই ও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টির ধরন আলাদা হলেও তাদের ভাবসাধনার মূল সুর মানবতা ও প্রেমের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও গবেষক আবদেল মাননান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সন্ত কবীর ও লালন একই নদীর দুই তীরের মতো, যারা বর্তমান সংকটময় সময়ে মানুষকে মানবতার পথে অনুপ্রেরণা দেন। উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ও লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, লালনপন্থী সাধক ফকির আবুল হোসেন শাহ, কবীরপন্থী সাধক নিঝুম পাইন, গুরুদুয়ারা নানকশাহীর পক্ষে ডা. এম কে রায় এবং গবেষক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু।
উৎসবের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ফকির লালন শাহের বাণী ‘ভক্ত কবীর জাতে জোলা প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা, ধরেছে সে ব্রজের কালা দিয়ে সর্বস্ব ধন তাই’। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে পর্যায়ক্রমে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শ্রীমঙ্গলের কবীরপন্থী সম্প্রদায়, ঢাকার রবিদাসপন্থী সম্প্রদায়, নানকপন্থী শিখ সম্প্রদায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিল্পী এবং কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। আয়োজকরা জানান, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল, ১৯ সেপ্টেম্বর খুলনা, ২৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ, ২ অক্টোবর রাজশাহী, ৪ অক্টোবর রংপুর, ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম এবং ৩০ অক্টোবর সিলেট বিভাগে উৎসবের আয়োজন করা হবে এবং এই আট বিভাগব্যাপী উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
গত জুনে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার সরকারি একটি স্বাস্থ্য ডেটা পোর্টালে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে…
গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন…
এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান।…
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর…
দেশের চারটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে রয়েছে…
রাজধানীর শাহ আলী থানার ডি ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের পাশে একটি কালো পলিথিনের ব্যাগ থেকে…
This website uses cookies.