
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতেও বর্তমান সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই এবং এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়ায় সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত তৃতীয় অধিবেশনের বিবরণ দিয়ে চিফ হুইপ জানান, গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া এই অধিবেশনটি মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে সংসদে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাস হয়েছে। এ ছাড়া সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধির আওতায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। যার মধ্যে বিধি ৬৮-এর অধীনে দুটি নোটিশ, বিধি ৭১-এর অধীনে ১৪টি বিষয় এবং দুই মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে উত্থাপিত ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন।
তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর ও আজীবনের জন্য ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এই আইনটি মূলত বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সামাজিক ও পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। অনেক সময় সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর বাবা-মায়েরা অসহায় হয়ে পড়েন এবং বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। নতুন এই আইনের ফলে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-ma জীবিত থাকা অবস্থায় তা ভোগ করতে পারবেন। এই আইনের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়া ধর্মীয় মূল্যবোধেরই একটি বড় অংশ।
গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এসব আইন চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে আইনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, হুট করে আন্দোলন বা লংমার্চের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, কারণ একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং মূল্য নির্ধারণের অনিয়মগুলো বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সরকারের আর্থিক ও কৃষি খাতের অর্জন তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত পাঁচ মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া কৃষকদের সহায়তায় কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের মতো সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১৬ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বণ্টন ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকলেও সরকার কৃষকদের কাছে দ্রুত সার পৌঁছে দিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দেশের স্বার্থ রক্ষা করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিয়ে চিফ হুইপ জানান, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টিতে বিরোধী দলের তিনজন করে এবং বাকি committeeগুলোতে দুজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অতীতে এমন নজির কম থাকলেও এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছেন এবং তিনি নিজেকে কোনো একক দলের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করেন। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি ও ভালো কাজ উভয়ই সমানভাবে তুলে ধরা উচিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২