
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা হলেও অধিকাংশ জায়গায় এই সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না। ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তার জানান, তাঁর বাসায় প্রতি মাসে ১২০ টাকার রসিদ এলেও অতিরিক্ত আরও ৫০ টাকা দিতে হয়, যার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। একই এলাকার অন্য বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগের বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া জানান, তাঁকে মাসে ২০০ টাকা বিল দিতে হয়, অথচ কর্মীরা নিয়মিত ময়লাও নিতে আসেন না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত ফি-র বেশি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি গত মে মাসে বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায় বা অনিয়ম হলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত মে মাসে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, বর্জ্য সংগ্রহের এই বাণিজ্য মূলত স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই অনিয়ম রোধে গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের স্বাক্ষরিত আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের প্রতি সাত দিন অন্তর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব খুব একটা দৃশ্যমান নয়। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রতিবেদন দিচ্ছেন না, ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে অনিয়মের কোনো পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি হয়নি।
নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান এই পরিস্থিতিকে সেবা নয়, বরং চাঁদাবাজি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, শুধু অফিস আদেশে এই বাণিজ্য বন্ধ হবে না। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা প্রকাশ, নির্ধারিত ফি নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থার পাশাপাশি অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তারা প্রতিবেদন না দিলে তাঁরা অনিয়মে সুযোগ করে দিচ্ছেন, যার দায় তাঁদের নিতে হবে।
ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ জানান, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং তদারকির নির্দেশনার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী দাবি করেন, তাঁদের এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে দল গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সব জায়গার চিত্র একই নয়। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকায় ঈদুল আজহার পর থেকে নিয়ম মেনে ১০০ টাকা করেই বিল নেওয়া হচ্ছে, যা প্রমাণ করে কর্তৃপক্ষ চাইলে নির্ধারিত ফি কার্যকর করা সম্ভব। আবার অভিযোগ করলে ময়লা নেওয়াই বন্ধ হয়ে যায় কি না, এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুরান ঢাকার কায়েতটুলী এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এলাকায় প্রতিটি বাসা থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে ময়লার বিল নেওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২