
জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ আগেই দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে কীভাবে এই সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে, কোন সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ কীভাবে শহীদ পরিবারকে প্রদান করা হবে, সে বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া ঠিক করতে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা International Crimes Tribunal-এর এই সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক ও তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যও আলোচনায় রয়েছে।
শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি, কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান। এরপর ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ড থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন এবং সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান।
রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা বহুবার কারাবন্দী ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে দুবার, ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ প্রায় তিন মাস, ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর এক মাস, ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে তাঁকে অন্তরীণ করা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি কারাবন্দী হন এবং মুক্তি পান ২০০৮ সালের ১১ জুন। এছাড়া ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন।
শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ২০০৯ সালে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার, ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’, আইটিইউ-এর ‘আইসিটি ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা সনদ, উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরামের রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। তিনি ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ ও ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’ সহ বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচয়িতা।
ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন। তাঁদের ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী, যিনি অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার সাতজন নাতি-নাতনি রয়েছে।
https://media.assettype.com/prothomalo-bangla/2025-12-22/ch6v6gn2/3.avif
prothomalo-bangla/2026-08-07/z6wq8myt/Hasina-2.jpg
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২