
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী আন্তদেশীয় তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন—মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস—আবার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী আন্তসরকার রেলওয়ে বৈঠকে (আইজিআরএম) বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ একমত হলে আগামী মাস থেকেই এই ট্রেনগুলো পুনরায় লাইনে ফিরতে পারে। এই বৈঠকের জন্য ইতিমধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এই বৈঠকে কেবল বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো চালু করাই নয়, বরং বাংলাদেশ আরও বেশ কয়েকটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী থেকে কলকাতার মধ্যে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা এবং ঢাকা-কলকাতার মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনা করা। এছাড়া রাতের বেলায় যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো এবং যাত্রীবাহী কোচের সাথে এক বা দুটি পার্সেল পরিবহনের কোচ যুক্ত করে পার্সেল বুকিং চালু করার প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা বিবেচনায় এই ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ জুলাই প্রথমে মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং ১৯ জুলাই থেকে তিনটি ট্রেনেরই চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ট্রেনগুলো আর চালু করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল visa সংক্রান্ত জটিলতা। হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত ভ্রমণ ভিসা প্রায় বন্ধ করে দেয় এবং বাংলাদেশও ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর ধীরে ধীরে দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করায় ট্রেন চালুর বিষয়টি আবার গতি পেয়েছে।
ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষও আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকে আসবে, যার জন্য দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতামতের প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। আইজিআরএম বৈঠক সাধারণত দুই দেশে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়; সর্বশেষ বৈঠকটি গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির সময়েও ২০২০ সালের ১৫ মার্চ থেকে দীর্ঘ ২৬ মাস মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ ছিল।
ইতিহাস অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আধুনিক রেল যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ২০২২ সালের ১ জুন ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে মিতালী এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে এই ট্রেনগুলো পরিচালনা করে এবং অতিক্রান্ত দূরত্বের ভিত্তিতে অর্जित আয় বণ্টন করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দূরত্ব বেশি, তাই আয়ের বড় অংশ পায় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, "যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুসহ অনেক বিষয়ই আলোচনায় আসবে। আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। দুই দেশের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।"
যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি এবারের বৈঠকে পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ দর্শনা-গেদে, পেট্রাপোল-বেনাপোল ও রহনপুর-সিংহাবাদ রুটে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সীমিত সময়ের পরিবর্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করতে চায়। এছাড়া রুটভিত্তিক ভিসার জটিলতা দূর করার প্রস্তাবও দেওয়া হবে, যাতে আকাশপথে ভারতে যাওয়া যাত্রীরা ট্রেন বা সড়কপথে ফিরতে পারেন। পাশাপাশি ভারতীয় রেলের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া পাওনা এবং ভারত থেকে আসা ওয়াগনগুলোর নিয়মিত বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা পিরিয়ডিক ওভারহলিংয়ের (পিওএইচ) বিষয়গুলোও আলোচনায় থাকবে।
বৈঠকে ভারতীয় ঋণে (এলওসি) চলমান প্রকল্পগুলো নিয়েও কথা হবে। বিশেষ করে ঢাকার কমলাপুর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা এখন পুনরায় শুরু হলেও গতি বেশ ধীর। এছাড়া ভারত অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যেসব প্রকল্প থেকে সরে গেছে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিষয়টিও বৈঠকে স্থান পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২