
ফেনী শহর যুবদলের নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনকে র্যাব পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ১২ বছর পেরিয়ে গেছে। ২০২৬ (2026) সালের ০৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও আজও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। প্রিয়জনের অপেক্ষায় আজও পথ চেয়ে আছেন রিপনের বৃদ্ধা মা রৌশন Ara বেগম এবং তার দুই মেয়ে ফারিয়া ও নিশাত। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এই পরিবারের অপেক্ষার অবসান ঘটেনি, বন্ধ হয়নি ছেলের জন্য এক মায়ের চোখের পানি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২০ মার্চ রাত ৩টার দিকে ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি রোডের একটি ভাড়া বাসা থেকে র্যাব পরিচয়ে একদল সশস্ত্র লোক রিপনকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে রিপনের মা ফেনীর র্যাব-৭-এর অস্থায়ী কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, রিপন নামে কাউকে তারা আটক করেনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরবর্তীতে ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
দীর্ঘ এক যুগ ধরে ছেলের ফেরার আশায় দিন কাটাচ্ছেন রৌশন আরা বেগম। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকের কয়েকজন লোক তার সেজো ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। রিপন তাকে খুব ভালোবাসত। ছেলে গুম হওয়ার পর পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। কিছুদিন পর রিপনের স্ত্রী তার ৫ বছর ও ৯ মাস বয়সী দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে চলে যান এবং পরে অন্যত্র বিয়ে করেন। বর্তমানে রৌশন আরা নিজে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। তার আরেক ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানও অসুস্থ, যাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। অভাবের সংসারে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে রৌশন আরা বেগম রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এমনকি ফেনীর পাইলট হাই স্কুল মাঠে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে দেখা করার জন্য সারাদিন অপেক্ষা করেও দেখা পাননি। রিপন যে নেতার অনুসারী ছিলেন, সেই বিএনপি নেতারাও এখন আর তাদের খোঁজ নেন না বলে রৌশন আরার অভিযোগ।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে রৌশন আরা জানান, ওই ঘটনার পেছনে একজন প্রভাবশালী নেতা জড়িত ছিলেন বলে পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন। ঘটনার পর থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে চায়নি। পরে মামলা নিলেও তদন্ত আর এগোতে দেওয়া হয়নি। শেষ বয়সে এসে এই বৃদ্ধা মায়ের একটাই আকুতি—বিএনপি সরকার যেন তার ছেলের গুমের বিচার করে। ছেলে বেঁচে থাকলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক, আর যদি কোনো অঘটন ঘটে থাকে, তবে অন্তত সেই সত্যটি যেন তাদের জানানো হয়।
২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক গুম দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও রিপনসহ গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। তবে রৌশন আরার অপেক্ষার অবসান হয়নি। ছেলে হারানোর শোকে শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা এই মা। বয়সের ভার, অসুস্থতা ও অভাব—সবকিছুর মধ্যেও ছেলের সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২