
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বাজারে হঠাৎ টাকা বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণ হওয়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, দীর্ঘদিন নতুন পে-স্কেল না হলেও নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেতে পেতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত স্কেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে ঢালাওভাবে টাকা বাড়ার সুযোগ নেই। তবে বেতন বৃদ্ধি পেলে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থাকে বলে তিনি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে এ বছরের শেষ নাগাদ দেশের ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি সুফল পাবেন প্রায় ২ কোটি প্রান্তিক মানুষ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগার বিষয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দুই বছর সময় লাগার অর্থ এই নয় যে, বর্তমান সংকট থেকে আগের অবস্থায় ফিরতে এত দীর্ঘ সময় লাগবে। মূলত সাময়িক যান্ত্রিক ও সরবরাহজনিত সমস্যাগুলো সমাধান হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে এটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে। রূপপুর চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধরনের সংযোজন হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ কমবে বলে সরকার আশা করছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার নতুন একটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) আনার অর্ডার দিয়েছে, যা দেশে আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। একই সময়ে গ্যাসের দেশীয় উৎস বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও চলবে। বাপেক্স বর্তমানে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ করছে এবং ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়ে আসার জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে রূপপুরের পূর্ণমাত্রার উৎপাদন যুক্ত হলে আগামী দুই বছরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসবে এবং শহর ও গ্রাম মিলিয়ে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সরকার এ নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাতে চায় না। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিটে ১২-১৩ ডলারের মতো থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৪-২৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আরও বেড়ে ৩০ ডলারের উপরে চলে গেলে আমদানি ব্যয় ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি করতে পারে।
সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্ভবত বিমান বাহিনী সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। দেশের সবচেয়ে আধুনিক ফাইটার মিগ-২৯-এর সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং সেগুলো বর্তমানে পুরোপুরি অপারেশনাল নয়।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও জীবিকা নিশ্চিত করতে নতুন ওয়েজ বোর্ড নিয়ে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করবে বলে ব্রিফিংয়ে আশ্বস্ত করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্পূর্ণ একমত। নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২