দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের লেনদেন ও প্রতিবেদন ব্যবস্থায় নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ বিষয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার নিলাম, আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য এই নতুন বৈদেশিক মুদ্রা বাজার বা এফএক্সএম (FXM) ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন ও প্রতিবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এতদিন এসব কার্যক্রম মূলত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হলেও এখন থেকে তা ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এফএক্সএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপমূলক নিলাম, আন্তঃব্যাংক লেনদেন এবং বাজারসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থাপনা করা হবে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পট, ফরওয়ার্ড ও সোয়াপ চুক্তিও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে বিক্রেতা ব্যাংক এফএক্সএমে লেনদেনের আদেশ দেবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্রেতা ব্যাংক তা গ্রহণ করবে। এরপরে উভয় ব্যাংকের ব্যাক অফিসের মাধ্যমে মুদ্রা ও টাকার নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একইভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিলামের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলো এফএক্সএমে ক্রয়-বিক্রয়ের আদেশ দিতে পারবে এবং ফলাফল ও বরাদ্দ একই ব্যবস্থার মাধ্যমে জানানো হবে। সোয়াপ লেনদেনের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ও পরবর্তী—উভয় ধাপের নিষ্পত্তিও এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমেই হবে।
তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি কর্মদিবসে তিন দফায় গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনের তথ্য জমা দিতে হবে। প্রথম দফায় সকাল ১১টা পর্যন্ত হওয়া লেনদেনের তথ্য সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংঘটিত লেনদেনের তথ্য বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে জমা দিতে হবে। বিকেল ৪টার পর দিনের অবশিষ্ট সময়ের লেনদেনের তথ্য পরবর্তী কর্মদিবসের সকাল ১১টার মধ্যে জমা দেওয়া যাবে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদনযোগ্য লেনদেন না থাকলেও ব্যাংকগুলোকে শূন্য প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সাধারণত এক লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি পরিমাণের গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেনের তথ্য দিতে হবে, তবে প্রবাসী আয় বা মজুরিভিত্তিক রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে লেনদেনের পরিমাণ যাই হোক না কেন, প্রকৃত তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
ব্যাংকগুলো নির্ধারিত ছকে এক্সেল ফাইল আপলোডের মাধ্যমে অথবা সরাসরি লেনদেনের তথ্য যুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত কর্মকর্তা তা যাচাই করে অনুমোদন করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের লেনদেন আরও স্বচ্ছ, দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও নির্ভুল হবে। এতে লেনদেন পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণ, প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং ম্যানুয়াল কাজের চাপ ও সময়ের অপচয় কমবে। নতুন এফএক্সএম ব্যবস্থা ব্যবহারের সুবিধার্থে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক পরিচালন নির্দেশিকাও জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২