
কুড়িগ্রামের রৌমারী সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লটারিতে নাম ওঠা প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করা, তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা, ভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কৃষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ আদায়ের মতো গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি ছুটির দিনে এবং রাতের আঁধারে ধান গুদামজাত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার অজুহাতে প্রতি ৩ মেট্রিক টন ধানের বিপরীতে কৃষকদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি সিন্ডিকেটের একেকজন সদস্যকে ২০ থেকে ৩০ জনের বিল পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের খেতারচর গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান মনির জানান, রৌমারী খাদ্য গুদামে ধান দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে প্রতি মণে ৫০ টাকা করে নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায়।
উপজেলার বন্দবেড় গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল জানান, লটারির তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা তার ধান গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে নিজের বিল অন্য কেউ তুলে নিয়েছে জানতে পেরে চাপ প্রয়োগ করলে কর্মকর্তা তাকে বলেন, ‘আপনার বিলটি অন্য কেউ করেছে, আপনি ১৯ হাজার টাকা নিয়ে আপস হয়ে যান।’ একপর্যায়ে তাকে এই আপসে বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের শান্তির গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান, তালিকায় নাম থাকার পরও তাদের ধান নেওয়া হয়নি। এমনকি কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সুপারিশ নিয়ে গেলেও কাজ হয়নি। উল্টো কর্মকর্তা বিষয়টি সুরাহার জন্য মণপ্রতি ১০০ টাকা দাবি করেন, যা তারা দিতে রাজি হননি।
একই গ্রামের আছুর উদ্দিন ও আজিজুল হক অভিযোগ করেন, ২২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চারবার গুদামে গেলেও তাদের ধান নেওয়া হয়নি। অবশেষে গত ১২ আগস্ট বিকেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায় তাদের ডেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করেন। অথচ ওই দিন দুপুরেই এই কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে ধান সংগ্রহ শেষ হয়ে গেছে। ধান সংগ্রহের সময়সীমা শেষ হলেও মানিক উল্লাহ, নছু শেখ ও শিরিয়াসহ অনেক প্রকৃত কৃষকের ধান না নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের বিল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ধান সংগ্রহের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চরশৌলামারী ইউনিয়নের কৃষক সোলায়মানের নামের পাশে বন্দবেড় গ্রামের নান্নু মিয়ার মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে। নান্নু মিয়া জানান, তিনি কোনো আবেদনই করেননি এবং কে তার নম্বর ব্যবহার করেছে তাও জানেন না। একইভাবে আব্দুল হামিদ, সোহেল রানা, জাহিদুল ইসলাম, খুকুমণি, আইয়ূব, জয়নাব বেগম, সাদাকাত, জুলফিকার, আলী হোসেন, নূর ছলিমা, শিরিয়া ও আছর উদ্দিনসহ অনেকের নাম ঠিক থাকলেও ফোন নম্বর ছিল অন্য ব্যক্তিদের।
এসব অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে জানান যে ধান সংগ্রহ শেষ হয়েছে। তবে তালিকায় নাম থাকা কৃষকদের ধান কেন নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাদের ধান নিব আমি।’ মোবাইল নম্বরের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বারবার বলতে থাকেন, ‘কী তথ্য লাগে বলেন।’
বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ঠিক আছে বিষয়টি বুঝতে পেরেছি’ বলেই ফোনের সংযোগ কেটে দেন। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জানান, রৌমারীর টিএনও তার সামনেই আছেন এবং বিষয়টি তিনি দেখছেন। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি, যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ২৩আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ২৪
খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে রয়েছে বন্ধের দিন ও রাতের আঁধারে ধান গুদামজাত করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিক ম্যানেজ করার কথা বলে প্রতি ৩ মেট্রিক টন ধানের জন্য কৃষক প্রতি ৩ হাজার ৩০০ টাকা উৎকোচ নেওয়া, সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে একেক জনকে ২০-৩০ জনের বিল দেওয়ারও অভিযোগও আছে
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২