
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে জাহাজ কাটার সময় দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জন শ্রমিকের পরিবারের মাঝে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। দুর্ঘটনার পর জাহাজের ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। তদন্তকারী দল জাহাজের বিভিন্ন ট্যাংক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে।
ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প বাংলাদেশে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও এটি খনিজ সম্পদের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ। হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ঘাটতির কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই গ্যাস অপসারণের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকা আমাদের ব্যর্থতা। তিনি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ‘জিরো ক্যাজুয়ালটিতে’ নামিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এলএনজিবাহী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ কাটার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহাবুব, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহসিন, তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব নাজমুল হাসান, সংগঠনের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেরদৌস স্টিলের মালিক ওয়াহেদ মুরাদ জানান, দুবাইয়ের একটি কোম্পানি থেকে ‘ক্লিন সার্টিফিকেট’ পাওয়ার পরই তিনি জাহাজটি কিনেছিলেন এবং প্রাথমিকভাবে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহসিন দাবি করেন, জাহাজ পুরোপুরি পরিষ্কার না করেই ক্লিন সার্টিফিকেট দেওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সার্টিফিকেটটি ভুয়া কি না, তা এখনো তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তে জাহাজের ট্যাংকের পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড দ্রবীভূত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্যাসটি আগে থেকেই ছিল নাকি পরে তৈরি হয়েছে, তা নির্ধারণ তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া কাটিং শুরুর আগে ট্যাংকের নিরাপত্তা পরীক্ষা ও শ্রমিক প্রবেশের অনুমতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্ঘটনার পর ফেরদৌস শিপইয়ার্ডের পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ইয়ার্ডটির পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ ১২ আগস্ট শেষ হয়। এর দুদিন পর ১৪ আগস্ট এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করে এবং ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২