
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আটজন ইমারত পরিদর্শককে নিয়োগের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে ওই ভুক্তভোগীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন না করে বিলুপ্ত ডিগ্রি ও অবাস্তব শর্তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া আটজন হলেন—অনয় সিংহ সুজাত, দ্বিন ইসলাম লিমন, আব্দুর রহমান রিয়াদ, তাহমিদুল ইসলাম ইবনুল, মাহিদুল হাসান, ইকরামুল হক, ইজতিয়াদ ইসলাম খান ও শরিফুল ইসলাম। এর আগে কুড়িগ্রামের শাকিরা আক্তার বিথি নামে আরেকজন বেতন না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ভুক্তভোগীদের অনেকেই সিটি করপোরেশন বা ওয়াসার মতো প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে সিডিএতে যোগ দিয়েছিলেন, ফলে হঠাৎ এই অব্যাহতিতে তারা এখন সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের আমলে ১৮ জন ইমারত পরিদর্শক নিয়োগের অস্থায়ী বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। শর্ত ছিল, প্রার্থীকে এইচএসসি পাস এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ‘সার্ভে ফাইনাল’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩৬৪ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ১৮ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারিতে তারা ১৬তম গ্রেডে যোগ দিয়ে বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তবে যোগদানের পর থেকেই ৯ জনের বেতন আটকে থাকে এবং গত ৬ জুলাই নোটিশের মাধ্যমে আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এই অব্যাহতি ও নিয়োগের অদ্ভুত শর্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরাও। বাংলাদেশ সার্ভে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোবারক হোসেন সম্প্রতি সিডিএ চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানান, ২০০৪ সালের পর থেকে রাজশাহী ও কুমিল্লার সার্ভে ইনস্টিটিউটগুলো ‘সার্ভে ফাইনাল’ নামে কোনো ডিগ্রি দিচ্ছে না। এর পরিবর্তে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সার্ভেয়িং টেকনোলজি) সনদ দেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পাসের পরই এই ডিপ্লোমা কোর্স করা হয়, তাই ডিপ্লোমার পাশাপাশি আবার এইচএসসি পাসের শর্ত চাওয়াকে তিনি অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ২০২৩ সালেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সিডিএকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে গত ২৩ এপ্রিল সিডিএর সচিব মাহবুবুল করিম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সিডিএর চাকরি বিধি-১৯৯০ সংশোধনের আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগেও ডিগ্রির নাম সংশোধন করা হয়েছে এবং এই পদের জন্য যোগ্যতা এসএসসি পাসসহ সার্ভে টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা হওয়া প্রয়োজন। ভুক্তভোগী তাহমিদুল ইসলাম ইবনুল জানান, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিব তাদের সনদ কয়েকবার যাচাই করেছেন এবং তারা বোর্ড থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রিটি এইচএসসি সমমানের—এমন প্রত্যয়নও দিয়েছিলেন। মোংলা কাস্টম হাউজের নিয়োগের উদাহরণ টেনে তিনি এই অব্যাহতিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক দাবি করেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা না থাকার পরও নিয়োগ পাওয়ায় তাদের এই নিয়োগ অবৈধ ছিল। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২